এসির গ্যাস শেষ, মেকানিকের এক কথায় বিশ্বাস করবেন না

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩২ এএম, ০৫ মার্চ ২০২৬
সাধারণ কিছু লক্ষণেই বোঝা যায় এসির গ্যাস কমেছে কি না

গরম পড়লেই এসির ব্যবহার বেড়ে যায়, আর সেই সঙ্গে বাড়ে সার্ভিসিং ও গ্যাস রিফিলের গল্প। অনেক সময় দেখা যায়, এসি সার্ভিসিং করতে এসে টেকনিশিয়ান সহজেই বলে দেন গ্যাস শেষ, রিফিল করতে হবে। কিন্তু সত্যিই কি প্রতিবার এসির গ্যাস শেষ হয়ে যায়? বাস্তবে কিন্তু বিষয়টি এতটা সহজ নয়। কারণ একটি এসির গ্যাস সাধারণত নিজে থেকে শেষ হয়ে যায় না, বরং কোথাও লিক থাকলেই তা বের হয়ে যেতে পারে।

তাই শুধু টেকনিশিয়ানের কথার ওপর নির্ভর না করে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখে নিজেই বুঝে নেওয়া যায়, সত্যিই এসির গ্যাস কমেছে কি না। কয়েকটি সহজ বিষয় খেয়াল করলেই বোঝা সম্ভব এসিতে গ্যাস রিফিলের প্রয়োজন আছে, নাকি অযথাই খরচ করানো হচ্ছে।

এসি ঠিকমতো ঠান্ডা করছে কি না
প্রথমেই লক্ষ্য করতে হবে এসি আগের মতো ঠান্ডা দিচ্ছে কি না। যদি গ্যাস কমে যায়, তাহলে সাধারণত এসির কুলিং ক্ষমতা কমে যায়। তাই সার্ভিসিংয়ের আগে কিছুক্ষণ এসি চালিয়ে তার ঠান্ডা করার ক্ষমতা পরীক্ষা করা ভালো। যদি সার্ভিসিংয়ের আগে এসি ভালো ঠান্ডা দেয়, কিন্তু পরে কুলিং কমে যায়, তাহলে সেটি সার্ভিসিংজনিত ত্রুটিও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে গ্যাস রিফিলের জন্য অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার আগে বিষয়টি আবার পরীক্ষা করা উচিত।

কয়েলে বরফ জমছে কি না
এসি গ্যাস কমে গেলে অনেক সময় ইনডোর ইউনিটের কয়েলে বরফ জমতে শুরু করে। কারণ গ্যাসের চাপ কম থাকলে কয়েল অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে যায় এবং বাতাসের আর্দ্রতা জমে বরফে পরিণত হয়। তাই যদি এসির কয়েল বা পাইপে বরফ জমতে দেখা যায়, তাহলে ধরে নেওয়া যায় যে গ্যাসের পরিমাণে সমস্যা থাকতে পারে।

আউটডোর ইউনিটের পাইপে তেলের দাগ
এসি সিস্টেমে গ্যাসের সঙ্গে একটি বিশেষ ধরনের তেলও চলাচল করে। যদি কোথাও লিক হয়, তাহলে গ্যাস দ্রুত উড়ে গেলেও তেল অনেক সময় পাইপের গায়ে জমে থাকে। তাই আউটডোর ইউনিটের পাইপে যদি আঠালো বা তেলের মতো কোনো দাগ দেখা যায়, তাহলে সেখানে লিক থাকার সম্ভাবনা থাকে। তবে তেল বা আর্দ্রতার কোনো চিহ্ন না থাকলে গ্যাস লিকের দাবি অনেক সময় সন্দেহজনক হতে পারে।

বাবল টেস্ট করে নিশ্চিত হওয়া
গ্যাস লিক আছে কি না তা বোঝার একটি সহজ পদ্ধতি হলো বাবল টেস্ট। এতে পাইপের জয়েন্টে সাবান বা ডিটারজেন্ট মিশ্রিত ঘন পানি লাগানো হয়। যদি সেই জায়গা দিয়ে গ্যাস বের হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বুদবুদ তৈরি হবে। আর যদি কোনো বুদবুদ না দেখা যায়, তাহলে ধরে নেওয়া যায় সেখানে লিক নেই।

অযথা গ্যাস রিফিল মানেই অর্থের অপচয়
অনেক সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে গ্যাস রিফিল করালে শুধু টাকা নষ্টই হয় না, বরং সমস্যার মূল কারণও অজানা থেকে যায়। তাই টেকনিশিয়ানের কথার ওপর অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে এই সহজ বিষয়গুলো পরীক্ষা করলে নিজেরই লাভ হবে। কারণ মনে রাখতে হবে লিক না থাকলে একটি এসির গ্যাস সাধারণত শেষ হয় না। আর সেই কারণেই সচেতন থাকলে অপ্রয়োজনীয় খরচ থেকেও সহজেই বাঁচা যায়।

আরও পড়ুন
বাড়িতে স্প্লিট এসি পরিষ্কার করবেন যেভাবে
গরমে এসি ঘামলে সতর্ক হওয়া জরুরি

কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।