দীর্ঘদিন পর এসি চালাবেন, আগেই যেসব সার্ভিসিং করানো জরুরি
গরম পড়তে শুরু করেছে, দীর্ঘদিন পর অনেকেই আবার এসি চালু করছেন। কিন্তু কয়েক মাস বা একেবারে এক-দেড় বছর বন্ধ থাকার পর সরাসরি এসি অন করা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এতে যেমন ঠান্ডা কম পাওয়া যায়, তেমনই হঠাৎ করে বড়সড় যান্ত্রিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই এসি চালানোর আগে কিছু জরুরি সার্ভিসিং করানো অত্যন্ত প্রয়োজন। চলুন বিস্তারিতভাবে দেখে নেওয়া যাক কোন কোন কাজ আগে করানো উচিত।
১. এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার বা পরিবর্তন
দীর্ঘদিন এসি বন্ধ থাকলে এয়ার ফিল্টারের মধ্যে প্রচুর ধুলো, ময়লা ও জীবাণু জমে যায়। এর ফলে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং এসি ঠিকমতো ঠান্ডা দিতে পারে না। অনেক সময় ঘরের ভেতরে অস্বস্তিকর গন্ধও ছড়ায়। তাই এসি চালুর আগে অবশ্যই ফিল্টার খুলে পরিষ্কার করা জরুরি। ফিল্টার বেশি পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে নতুন ফিল্টার লাগানোই ভালো।
২. ইনডোর ইউনিটের গভীর পরিষ্কার
ইনডোর ইউনিটের কুলিং কয়েল ও ব্লোয়ার ফ্যানে ধুলো জমে থাকলে কুলিং ক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়। শুধু তাই নয়, এতে বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এই অংশে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের আস্তরণ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই পেশাদার টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে ইনডোর ইউনিট ভালোভাবে পরিষ্কার করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩. আউটডোর ইউনিট পরীক্ষা ও পরিষ্কার
আউটডোর ইউনিট সাধারণত খোলা জায়গায় থাকে বলে সেখানে পাতা, ধুলো, ময়লা কিংবা পাখির বাসা জমে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। এতে তাপ বের হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং এসির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে কুলিং কমে যায় এবং যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই এসি চালানোর আগে আউটডোর ইউনিট পরিষ্কার ও ফ্যান ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করা জরুরি।
৪. রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস লেভেল পরীক্ষা
দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে বা পুরোনো এসিতে ধীরে ধীরে রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস কমে যেতে পারে। গ্যাস কম থাকলে এসি চললেও পর্যাপ্ত ঠান্ডা পাওয়া যায় না এবং কম্প্রেসারের উপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই এসি চালুর আগে গ্যাস লিক আছে কি না পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজন হলে গ্যাস রিফিল করানো খুবই দরকার।
৫. ড্রেন পাইপ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পরীক্ষা
এসি চালু হলে ইনডোর ইউনিট থেকে পানি বের হয় ড্রেন পাইপের মাধ্যমে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে এই পাইপে শ্যাওলা বা ময়লা জমে ব্লকেজ তৈরি হতে পারে। ফলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। এসি চালানোর আগে ড্রেন পাইপ পরিষ্কার করা হলে এই ঝামেলা এড়ানো যায়।
৬. ইলেকট্রিক কানেকশন ও রিমোট পরীক্ষা
দীর্ঘদিন ব্যবহৃত না হলে এসির ইলেকট্রিক সংযোগ ঢিলে হয়ে যেতে পারে বা তারে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে শর্ট সার্কিট বা হঠাৎ করে এসি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি রিমোট কন্ট্রোলের ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়াও খুব সাধারণ সমস্যা। তাই মেইন সুইচ, প্লাগ, তার এবং রিমোট সবকিছু ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি।
৭. ট্রায়াল রান দেওয়া
সব ধরনের সার্ভিসিং শেষ হওয়ার পর অন্তত ১৫-২০ মিনিট এসি চালিয়ে দেখা উচিত। এতে কুলিং ঠিক আছে কি না, অস্বাভাবিক শব্দ হচ্ছে কি না বা কোথাও পানি পড়ছে কি না এসব আগেই বোঝা যায়। এই ট্রায়াল রান ভবিষ্যতে বড় সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন
বাড়িতে স্প্লিট এসি পরিষ্কার করবেন যেভাবে
গরমে এসি ঘামলে সতর্ক হওয়া জরুরি
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
কেএসকে