বিশ্ব ব্যাকআপ দিবস

ডাটা সুরক্ষিত রাখতে ‘৩-২-১ ব্যাকআপ নিয়ম’ মানছেন তো

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:০১ পিএম, ২৮ মার্চ ২০২৬
ছবি: এআই

ডিজিটাল যুগে আমাদের জীবনের বড় অংশই এখন ডাটার উপর নির্ভরশীল। স্মার্টফোনের ছবি, গুরুত্বপূর্ণ নথি, অফিসের ফাইল, ব্যক্তিগত ভিডিও সবকিছুই সংরক্ষিত থাকে কম্পিউটার বা মোবাইল ডিভাইসে। কিন্তু একটি হার্ডড্রাইভ নষ্ট হওয়া, ফোন হারিয়ে যাওয়া বা ভাইরাস আক্রমণের কারণে মুহূর্তেই এই মূল্যবান ডাটা চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। এই ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দিতেই প্রতি বছর ৩১ মার্চ পালিত হয় বিশ্ব ব্যাকআপ দিবস।

এই দিনটির উদ্দেশ্য খুবই সহজ মানুষকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও তথ্যের ব্যাকআপ নেওয়ার ব্যাপারে সচেতন করা। দিনটি ১ এপ্রিল বা ‘এপ্রিল ফুল’ এর আগের দিন পালন করা হয়, যাতে সবাই মজা করে হলেও মনে রাখে ডাটা ব্যাকআপ না করলে একদিন বড় বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে।

কিন্তু প্রশ্ন আসতে পারে ডাটা ব্যাকআপ কেন এত জরুরি? বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাটা হারানোর অন্যতম বড় কারণ হলো হার্ডওয়্যার ত্রুটি। হার্ডড্রাইভ ক্র্যাশ, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে ডিভাইস নষ্ট হওয়া কিংবা সফটওয়্যার ত্রুটি এসব কারণে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ফাইল হারিয়ে ফেলেন। আবার ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার আক্রমণেও ডাটা মুছে যেতে পারে। গবেষণা বলছে, প্রতি ১০টি কম্পিউটারের মধ্যে অন্তত একটি কোনো না কোনো ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো স্মার্টফোন হারানো বা চুরি হয়ে যাওয়া। আধুনিক স্মার্টফোনে ব্যক্তিগত ছবি, মেসেজ, ব্যাংকিং তথ্য, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ অফিস নথিও সংরক্ষিত থাকে। ফলে ফোনটি হারিয়ে গেলে শুধু একটি ডিভাইস নয়, পুরো ডিজিটাল জীবনই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ডাটা ব্যাকআপের ধারণা নতুন নয়। ১৯৫০-এর দশকে প্রথম দিকের কম্পিউটারগুলোতে তথ্য সংরক্ষণের জন্য ম্যাগনেটিক টেপ ব্যবহার করা হতো। পরে ১৯৬০-এর দশকে আইবিএম তাদের টেপ ড্রাইভ প্রযুক্তি উন্নত করে, যা মেইনফ্রেম কম্পিউটারগুলোর ডাটা সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে।

১৯৬৯ সালে আরপানেট চালু হওয়ার পর গবেষকরা দূরবর্তী কম্পিউটারে ডাটা সংরক্ষণের ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় পরে অফসাইট ও রিমোট ব্যাকআপ প্রযুক্তির বিকাশ ঘটে। ব্যক্তিগত কম্পিউটারের যুগে ব্যাকআপ আরও সহজ হয়ে যায়। ১৯৮৩ সালে এমএস-ডস এ প্রথমবারের মতো বিল্ট-ইন ব্যাকআপ কমান্ড যুক্ত করা হয়, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদেরও সহজে ফাইল সংরক্ষণ করার সুযোগ দেয়।

৩-২-১ ব্যাকআপ নিয়ম। ডাটা সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা একটি জনপ্রিয় কৌশল অনুসরণ করার পরামর্শ দেন, যাকে বলা হয় ৩-২-১ ব্যাকআপ নিয়ম। এই নিয়ম অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ডাটার অন্তত তিনটি কপি রাখতে হবে। দুটি ভিন্ন ধরনের স্টোরেজে সেই ডাটা সংরক্ষণ করতে হবে। এবং একটি কপি অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে। এতে করে একটি ডিভাইস নষ্ট হলেও অন্য কপির মাধ্যমে তথ্য পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।

বর্তমানে ক্লাউড প্রযুক্তির কারণে ডাটা ব্যাকআপ আরও সহজ হয়েছে। গুগল ড্রাইভ বা আইক্লাউড এর মতো পরিষেবাগুলো ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা তাদের ছবি, ডকুমেন্ট এবং ভিডিও অনলাইনে সংরক্ষণ করতে পারেন। এতে ডিভাইস নষ্ট হলেও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজেই ফাইল পুনরুদ্ধার করা যায়।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, শুধু ক্লাউডে ভরসা করাও ঠিক নয়। নিরাপদ থাকার জন্য লোকাল ব্যাকআপ এবং ক্লাউড ব্যাকআপ দুই ধরনের সংরক্ষণ পদ্ধতি একসাথে ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো।

ব্যাকআপ নেওয়ার জন্য জটিল প্রযুক্তির দরকার নেই। স্মার্টফোনে স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ চালু রাখা, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ক্লাউডে আপলোড করা বা একটি এক্সটার্নাল হার্ডড্রাইভে কপি করে রাখা এই কয়েকটি সহজ পদক্ষেপই বড় ক্ষতি থেকে আপনাকে বাঁচাতে পারে।

ডিজিটাল জীবনে আমরা যত বেশি ডাটার উপর নির্ভরশীল হচ্ছি, ততই ব্যাকআপের গুরুত্ব বাড়ছে। তাই বিশ্ব ব্যাকআপ দিবস শুধু একটি দিন নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণিকা আজই আপনার গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলোর নিরাপদ কপি তৈরি করুন, কারণ এক মুহূর্তের অসাবধানতায় বছরের পর বছর জমে থাকা স্মৃতি বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন
এখন নোটপ্যাডেও পাবেন ইমেজ সাপোর্ট
মাঝে মাঝেই ফোনের স্ক্রিন কালো হয়ে যাচ্ছে, যা করবেন

কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।