গরম পড়তেই এসি চালাচ্ছেন, বিদ্যুৎ খরচ কত বাড়বে জানেন?
গরম পড়তে না পড়তেই অনেকে ঘরের আরাম নিশ্চিত করতে এসি চালানো শুরু করেন। বিশেষ করে শহুরে জীবনে এখন এসি আর বিলাসিতা নয়, অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় একটি যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এসি চালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলও যে দ্রুত বাড়তে পারে সেই বিষয়টি অনেকেই আগে থেকে হিসাব করে দেখেন না। ফলে মাস শেষে বিল হাতে পেয়ে অনেকেরই চমকে উঠতে হয়। এসি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ খরচ কতটা বাড়তে পারে এবং কীভাবে এই খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় সেই বিষয়গুলো জানা জরুরি।
আমাদের দেশে সাধারণত ঘরে ব্যবহৃত এসিগুলো ১ টন, ১.৫ টন ও ২ টন ক্ষমতার হয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ১ টন ও ১.৫ টনের এসি। সাধারণ হিসাব অনুযায়ী, একটি ১ টন এসি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ০.৯ থেকে ১.২ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে। আর ১.৫ টন এসি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১.৫ থেকে ২ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। অর্থাৎ প্রতিদিন যদি গড়ে ৮ ঘণ্টা করে একটি ১.৫ টন এসি চালানো হয়, তাহলে দিনে প্রায় ১২ থেকে ১৬ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে।
এখন যদি মাসিক হিসাব ধরা হয়, তাহলে ৩০ দিনে এই খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩৬০ থেকে ৪৮০ ইউনিট বিদ্যুতে। গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ৮ থেকে ১১ টাকার মধ্যে হলে শুধু এসি চালানোর কারণেই মাসে প্রায় ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকার অতিরিক্ত বিল আসতে পারে। তবে এটি নির্ভর করে এসির ক্ষমতা, ব্যবহারের সময় এবং বাসার অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ওপর।
তবে সব এসির ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ খরচ একরকম নয়। পুরোনো নন-ইনভার্টার এসির তুলনায় নতুন ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। ইনভার্টার এসি প্রয়োজন অনুযায়ী কম্প্রেসরের গতি নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ইনভার্টার এসি একই সময় চালালে নন-ইনভার্টার এসির তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারে।
এছাড়া ঘরের তাপমাত্রা কত রাখা হচ্ছে, সেটিও বিদ্যুৎ খরচের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। অনেকেই এসি চালিয়ে ১৮ বা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করে দেন, যা বিদ্যুৎ খরচ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এসি চালালে আরামও পাওয়া যায় এবং বিদ্যুৎ খরচও তুলনামূলক কম হয়। তাপমাত্রা যত কম রাখা হবে, কম্প্রেসরকে তত বেশি কাজ করতে হবে, ফলে ইউনিট খরচও বাড়বে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘরের পরিবেশ। যদি দরজা-জানালা ঠিকভাবে বন্ধ না থাকে বা ঘরে তাপ ঢোকার সুযোগ থাকে, তাহলে এসিকে বেশি সময় কাজ করতে হয়। এতে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়। তাই এসি চালানোর সময় দরজা-জানালা বন্ধ রাখা, পর্দা ব্যবহার করা এবং ঘরের ফাঁকফোকর বন্ধ রাখা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সাহায্য করে।
এসি নিয়মিত পরিষ্কার না করলেও বিদ্যুৎ খরচ বাড়তে পারে। ফিল্টার বা কয়েল ময়লা হয়ে গেলে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং কম্প্রেসরকে বেশি চাপ নিতে হয়। ফলে একই ঠান্ডা পেতে বেশি বিদ্যুৎ লাগে। তাই বিশেষজ্ঞরা প্রতি এক থেকে দুই মাস পরপর এসির ফিল্টার পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন।
কেএসকে