স্মার্টফোনের কারণে বাড়ছে ইন্টারনেটের ব্যবহার
ইন্টারনেট ব্যবহারের অন্যতম মাধ্যমে পরিণত হয়েছে মোবাইল ডিভাইস। এসব ডিভাইসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে স্মার্টফোন। উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে স্মার্টফোনের কল্যাণে আগের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ অনলাইনে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্যই জানায় বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশন (আইডিসি)। খবর টেলিকমটেকনিউজ।
বর্তমানে প্রযুক্তিপণ্যের অন্যতম বড় বাজার স্মার্টফোনে। ডিভাইসগুলোর বহুমুখী ফিচারের পাশাপাশি সাশ্রয়ী দাম ক্রেতাকে আকৃষ্ট করছে। স্মার্টফোনগুলো এখন অনেক ক্ষেত্রে কম্পিউটারের কাজও করছে। ২০১০ সালের দিকে বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিপণ্যের বাজারে সবচেয়ে বেশি সরবরাহ হতো পিসি ও নোটবুক। এ দুই শ্রেণীর ডিভাইস সরবরাহের হার ছিল মোট পণ্যের ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ।
বলা বাহুল্য, সে সময় ইন্টারনেট ব্যবহারের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম ছিল পিসি ও নোটবুক। তখন স্মার্টফোন সরবরাহের হার ছিল ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ। আর ট্যাবলেট সরবরাহের হার ছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ। কিন্তু গত কয়েক বছরে স্মার্টফোন সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
আইডিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও পিসি মিলে সরবরাহ হয়েছে মোট ১৮০ কোটি ইউনিট। ২০১৯ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ২৫০ কোটি ইউনিটে দাঁড়াবে। আর এর মধ্যে সবচেয়ে বাড়বে স্মার্টফোনের ব্যবহার। গত বছরের হিসাবে মোট ডিভাইস সরবরাহের ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল স্মার্টফোন। পিসির ক্ষেত্রে এ হার ছিল ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ আর ট্যাবলেটের ক্ষেত্রে সাড়ে ১২ শতাংশ। ২০১৯ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন সরবরাহ মোট ডিভাইস সরবরাহের ৭৭ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়াবে। পিসির ক্ষেত্রে এ হার হবে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ আর ট্যাবলেটের ক্ষেত্রে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ।
এ বিষয়ে আইডিসির ভাইস প্রেসিডেন্ট টম মাইনেলি বলেন, ‘খুব দ্রুত বাড়ছে স্মার্টফোনের ব্যবহার। যেখানে পিসি ও ট্যাবলেটের বাজার অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে।’
অঞ্চলভেদে ট্যাবলেট ও পিসির চাহিদা কম হলেও আগামীতে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য স্মার্টফোনের চাহিদা সব অঞ্চলেই বাড়বে। তবে সব ধরনের স্মার্টফোনের ব্যবহার একই হারে বাড়বে না। মূলত কম দামের স্মার্টফোনের চাহিদা বেশি। উন্নয়নশীল অর্থনীতির বাজারগুলোয় ১০০ ডলারের কম দামের ডিভাইসগুলোর প্রতিই ক্রেতার ঝোঁক বেশি।
এআরএস/আরআইপি