টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জ করে বিপদ ডাকছেন না তো?

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৭ এএম, ২৯ জানুয়ারি ২০১৯
ফেসবুকে টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জসহ যেসব তৃতীয়পক্ষের অ্যাপে ঢুকে আমরা নানা মজার খেলা বা কুইজে অংশ নিচ্ছি, তাতে আমরা নিজেদের সম্পর্কে নানা ধরনের তথ্য তাদের দিয়ে দিচ্ছি

দশ বছর আগে আপনি দেখতে কেমন ছিলেন? পুরনো অ্যালবাম ঘেঁটে সেটি জানতে হয়তো বেশ সময় লাগবে। কিন্তু হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পেয়ে গেলেন মজার এক অ্যাপ টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জ। সেটি দিয়ে খুব সহজেই এখনকার সময়ের সঙ্গে সেই সময়কার নিজের চেহারার তুলনা করে নিলেন। বছরের শুরুতেই মাত্র একটা ক্লিক আর অল্প কিছু তথ্য দিয়ে ফেসবুক ঘাটতে গিয়ে জেনে গেলেন এ বছরের রাশিফল।

এই যদি হয় তাহলে সাবধান হয়ে যান! কারণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেমন যাবে প্রেম অথবা পেশাগত জীবনে-এমন ভবিষ্যতবাণী অথবা কোনো নায়ক বা নায়িকার সঙ্গে আপনার চেহারার মিল রয়েছে তা জানতে গিয়ে আসলে ফেসবুক ও তার তৃতীয়পক্ষের পার্টনারদের আমরা অনেক তথ্য দিয়ে দিচ্ছি।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জাকারিয়া স্বপন বলছেন, ফেসবুকে যেসব তৃতীয়পক্ষের অ্যাপে ঢুকে আমরা নানা মজার খেলা বা কুইজে অংশ নিচ্ছি তাতে আমরা নিজেদের সম্পর্কে নিজেরাই নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাদের দিয়ে দিচ্ছি।

উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জ-তাতে আমি ছবি দিয়েছি। এর মাধ্যমে ওই অ্যাপকে ফেসিয়াল রিকগনিশনের সুযোগ দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু অপরিচিত কেউ আপনার ছবি কোথাও তুললে ব্যক্তিগত বিষয় লঙ্ঘন হচ্ছে বলে আমরা তাতে বিরক্ত হই। অথচ এখানে নিজেই যত্ন করে ছবি দিয়ে দিয়েছেন।’

টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জ সম্প্রতি ব্যাপক জনপ্রিয় পেয়েছে। যাতে সকল দেশের মানুষজনতো বটেই জনপ্রিয় তারকারাও অংশ নিয়েছেন। এমনকি পরিবেশবিদ বা মানবাধিকারকর্মীরা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে এতে অংশ নিয়েছেন।

কিন্তু এই বিষয়ে সাবধান করে দিয়েছন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ স্বপন। তিনি বলছেন, কিছু অ্যাপ রীতিমতো বিপজ্জনক। যেমন ধরুন রাশিফলবিষয়ক অ্যাপ যেখানে নিজের জন্ম তারিখ দিচ্ছেন আপনি। জন্ম তারিখ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টেও ব্যবহৃত হচ্ছে। ই-মেইল অ্যাড্রেস চলে যাচ্ছে।

ব্যক্তি সম্পর্কে ডাটাবেজ তৈরি হয়ে যাচ্ছে

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ নিয়ে সোমবার তাদের বাংলা অনলাইন সংস্করণে একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, অনেক সময় কুইজে অংশ নিচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। তাতে আপনার পছন্দ, অপছন্দ, আপনার পেশা, নিয়মিত চেক ইনের মাধ্যমে কোন ধরনের এলাকায় আপনি যাচ্ছেন, কোন রেস্টুরেন্টে কেমন খাবার খান, এমনকি আপনার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কী, কাদের আপনি ঘৃণা করেন-সেসব তথ্য সেখানে নিজেই দিচ্ছেন।

কিন্তু কয়েকটি লাইক বা খানিক বিনোদনের জন্য আপনি কি কোনো নজরদারির অংশ হয়ে উঠছেন?-এমন প্রশ্ন বহুদিনের। স্বপন বলছেন, বহু অ্যাপ নানা এজেন্সির প্ল্যান্ট করা এটা অনেকবার প্রমাণিত হয়েছে। আপনি খেলা নিয়ে ভাবছেন কিন্তু সে আপনার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে নিল।

আপনি জানেন কি আপনি কেমন লোক তা যাচাই করতে চাইলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেই অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট? এমনকি আপনাকে টার্গেট করে নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন দিয়ে নির্বাচনে আপনার ভোট দেয়ার প্রবণতা বদলে দেয়া বা কোন পণ্য কেনার ব্যাপারে ধীরে ধীরে আগ্রহী করে তোলা এমন অনেক কিছুর নমুনা ইদানিং পাওয়া যায়।

যেভাবে কাজ করে এসব তৃতীয়পক্ষের অ্যাপ

জাকারিয়া স্বপন বলছেন, ফেসবুককে প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে আরও অনেক সফটওয়ার কোম্পানি। তাদের অ্যাপ্লিকেশনগুলো ফেসবুক সংযুক্ত হওয়ার অনুমতি দেয়। ফেসবুকের কাছ থেকে সে যেমন আপনার কিছু তথ্য নিয়ে নেয় তেমনটি আপনি নিজেও কিছু তথ্য তাদের দিচ্ছেন। ফেসবুক এবং দুপক্ষই এখানে অর্থ উপার্জন করে। যেমন ধরুন অ্যাপগুলো যখন এভাবে অর্থ উপার্জন করে তখন সে ফেসবুককেও তা দিয়ে থাকে।

তবে ফেসবুক টেন ইয়ার চ্যালেঞ্জ বা অন্য কারোর কাছে ব্যবহারকারীর তথ্য দেয়ার বিষয়টি সবসময় অস্বীকার করে আসছে। এ বিষয়ে একাধিকবার বক্তব্য দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ।

এসআর/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]

আপনার মতামত লিখুন :