উগান্ডার চেয়ে ইন্টারনেটের গতি ৪১ ধাপ কম, বিশ্বাস করেন না মন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫২ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০২৩

মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে উগান্ডার চেয়ে ৪১ ধাপ পেছনে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেটের গতি কেমন, তা তুলে ধরে প্রতি মাসে স্পিড-টেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্স নামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওকলা। সেখানে এ দাবি করা হয়েছে। তবে ওকলার ওই প্রতিবেদন বিশ্বাস করেন না ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

সোমবার (২০ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন কথা বলেন।

মোবাইল ইন্টারনেটের গতি উগান্ডার চেয়েও ৪১ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমি ওকলার ওই রিপোর্ট বিশ্বাস করি না। কারণ ওকলা আমাদের সরকারি কর্তৃপক্ষের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। আপনি ব্যক্তিগত একটি প্রতিবেদন দিয়ে দিলেন, সেটা আমি স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে মেনে নেবো, তা হবে না। ওকলা কোনো স্ট্যান্ডার্ড না। এখানে এমন কোনো তথ্য দেয়নি যে আমি এভাবে যেটা নিয়েছি। তারা কোথাও থেকে তথ্য নিয়েছি। যদি গতির কথা বলতে চায়, তাহলে গতি মাপে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বিটিআরসির সঙ্গে তারা কথা বলেনি।

আপনি গিয়ে পরিমাণ করুন, তারপর মানদণ্ড নির্ধারণ করেন। বিটিআরসির কাউকে নিয়ে যাবেন, কারণ টেলিকম খাতের কোনো অভিভাবকের কথা চিন্তা করতে হয়, সেটা বিটিআরসি।

আরও পড়ুন>> গতি বাড়লেও উগান্ডার চেয়ে ৪১ ধাপ পেছনে বাংলাদেশ

তাহলে প্রতিবেদন দেন না কেন, প্রশ্নে তিনি বলেন, কী কারণে, ওকলা কী? এমন কী যার জন্য আমাকে প্রতিবাদ দিতে হবে।

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মনে করি, গোয়ালা কখনো নিজের দই সম্পর্কে খারাপ কিছু বলবে না। আমি বলবো, ২০১৮ সালের আগের টেলিযোগাযোগ খাতের সঙ্গে ২০২৩ সালের অবস্থান নিজেরা অনুসন্ধান করে বের করলে পরিবর্তনটা দেখতে পাবেন।

‘আর আমার কাজ চিরদিনই আমার কাছে ভালো মনে হবে। আমি একবাক্যে বলবো, ২০১৮ সালের যেসব কাজ বা অগ্রগতিগুলো হয়নি, সেগুলো পূরণ করার জন্য আমি সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করেছি। যে কারণে আমরা অনেক উন্নতি করতে পেরেছি।’

উদহারণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে শতকরা ৯৮ ভাগ ফোরজি নেটওয়ার্ক আছে এখন। এটি প্রায় দুঃসাধ্য একটি কাজ ছিল। যেখানে থ্রিজি নেটওয়ার্ক প্রসারিত হতে পারেনি। ২০২৩ সালের মধ্যে সারা দেশে ফোরজি নেটওয়ার্ক দিতে পেরেছি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আমি যে অভিযোগ সবসময় পাই, তার একটি হচ্ছে, চারটি টেলিকম অপারেটরের ভিতরে তিনটি সম্পর্কে তাদের অভিযোগ হচ্ছে, কল ড্রপ হয়, নেটওয়ার্ক পাই না। চতুর্থ অপারেটর টেলিটকে সর্বসাকুল্যে বিনিয়োগ ছিল তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা। টেলিকম খাত এমন যে, নেটওয়ার্ক না থাকলে নাম দিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা কঠিন কাজ ছিল। এখন টেলিটকে বিনিয়োগ বেড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি।

‘এতে টেলিটক দুর্যোগ প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও নেটওয়ার্ক দিতে পেরেছে। আরেকটি বড়ো কাজ হচ্ছে, একটি ডমিস্টিক রোমিংয়ের কাজ শুরু করেছে। সেটি বাংলালিংকের সঙ্গে এখন পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। এরমধ্য দিয়ে বাংলালিংকের নেটওয়ার্ক পুরোটাই ব্যবহার করতে পারবে টেলিটক। আবার টেলিটকের নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক বাংলালিংক ব্যবহার করতে পারবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, এতে লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগের সুবিধা পাওয়া যাবে। এমনভাবে ইন্টারনেটের দামের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন, আমরা একদেশ এক রেট করেছি। জনগণের প্রতি সুবিচার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য যা করার, সেটা আমরা করেছি।

আইএইচআর/এমএএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।