১২৩ প্রজাতির পাখি দেখতে চলে যান হাজারিখিলে

ভ্রমণ ডেস্ক
ভ্রমণ ডেস্ক ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৫০ পিএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২১

আজহার মাহমুদ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এক স্থান হাজারিখিল। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবস্থিত হাজারিখিলের সৌন্দর্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। স্থানটিকে গিরিপথ, সুরঙ্গ, পাহাড়ি ঝরনা ও চা বাগান ঘিরে রেখেছে। যেখানে গেলে প্রকৃতির সবটুকু সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ রয়েছে।

হাজারিখিলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো নানা প্রজাতির পাখির কোলাহল। আপনি যদি পাখির রাজত্বে হারিয়ে যেতে চান, তাহলে চাখ বন্ধ করে হাজারিখিল চলে যান। যেখানে দেখতে পাবেন হাজারো নাম না জানা পাখির আনাগোনা। হাজারিখিল অভয়ারণ্য আপনাকে পাখির কলকাকলিতে মুখরিত করে রাখবে।

২৯০৮ হেক্টর জমি নিয়ে অভয়ারণ্যটি গঠিত। ১৮৯৩ সালে জায়গাটিকে ‘রামগড়-সীতাকুণ্ডু সংরক্ষিত বন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বন্যপ্রাণিতে মুখর হাজারিখিলে দেখা মেলে নানা জীব-জন্তুর। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ভাল্লুক, বনবিড়াল, মেছোবাঘ, শিয়াল, মায়া হরিণ, সাম্বার, বনকুকুর, বনছাগল, বানর ও হনুমান। কখনো দেখা মেলে চিতাবাঘেরও!

মোট ৮ প্রজাতির উভচর এবং ২৫ প্রজাতির সরীসৃপ রয়েছে এ বনে। তবে পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে খ্যাত হাজারিখিলে রয়েছে প্রায় ১২৩ প্রজাতিরও বেশি পাখি! সে হিসেবে হাজারিখিল অভয়ারণ্যকে পাখিপ্রেমীদের স্বর্গ বললেও ভুল হবে না।

বিশেষ করে বিপন্নপ্রায় কাঠময়ূর আর মথুরার দেখা পাওয়া যায় হাজারিখিলে। আছে কাউ ধনেশ ও হুতুম প্যাঁচাও। বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের সমারোহ থাকায় চিরসবুজ এ বনে এমন কিছু প্রজাতির পাখির সন্ধান মিলেছে। যা অন্য কোনো বনে সচরাচর দেখা যায় না।

এরমধ্যে রয়েছে- হুদহুদ, চোখ গেল, নীলকান্ত, বেঘবৌ ও আবাবিল। এসব পাখির আকার-আকৃতি, বর্ণ ও স্বভাব বৈচিত্র্যময়। সম্প্রতি বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগের এক গবেষণায় পাখির এসব প্রজাতির সন্ধান পায় গবেষকদল।

এ অভয়ারণ্যে নানা প্রজাতির পাখির সঙ্গে শীতকালে যোগ দেয় অতিথি পাখির দল। হাজারিখিল অভয়ারণ্যে ঢুকতেই দেখবেন, হাতের বামপাশে বিশাল চা বাগান আর ডানপাশের সিঁড়ি বেয়ে উঠলেই দেখা মিলবে বন্যপ্রাণির। এখানে আপনি হারিয়ে যাবেন চা বাগানের দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যে।

এ ছাড়া হাজারিখিলে নানা ধরনের বৃক্ষের সমাহারও উপভোগ করতে পারবেন। তবে চিরহরিৎ গাছই বেশি এখানে। আছে গর্জন, চাপালিশ, সেগুন, কড়ই, মেহগনি ও চুন্দুল। বিখ্যাত রাঙ্গাপানি চা বাগানটিও এ অভয়ারণ্যের পাশেই অবস্থিত।

যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে পারেন বাসে বা ট্রেনে। এরপর ফটিকছড়ি হয়ে হাজারিখিল যেতে হবে। অক্সিজেন থেকে ফটিকছড়ির বাস পাবেন। ভাড়া জনপ্রতি ৪০ টাকা। বাসে মোটামুটি আধাঘণ্টার জার্নি।

বাসে আপনাকে নামতে হবে বিবিরহাট। সেখানে নেমেই রোডের বিপরীতে গিয়ে সিএনজি দেখতে পাবেন। যেগুলো হাজারিখিল বাজার পর্যন্ত জনপ্রতি ৩৫ টাকা ভাড়া নেয়।

বাজারে নেমে হাজারিখিল অভয়ারণ্য ১০ মিনিটের পথ। সেখানে গিয়ে গাইড সঙ্গে করে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পাহাড়ের গিরিপথ ট্র্যাকিং করার পর পাওয়া যাবে ‘কালাপানির ঝরনা’। সেখান থকে ফিরে এসে চা বাগান পেরিয়ে যেতে পারেন সুড়ঙ্গ দেখতে।

খাবেন কোথায়: হাজারিখিল অভয়ারণ্যে দুপুরে খাওয়ার জন্য একটি ভাতঘর আছে। যেখানে জনপ্রতি ১৩০ টাকা দিয়ে প্যাকেজ নিতে পারেন। এ ছাড়াও ফটিকছড়ি শহরে নানা ধরনের খাবারের হোটেল আছে।

থাকবেন কোথায়: থাকার জন্য চট্টগ্রাম বা ফটিকছড়ি শহরে অনেক হোটেল আছে। অবশ্যই ভাড়া দরদাম করে রুম দেখে উঠবেন।

তাহলে আর দেরি কেন? ঘুরে আসুন পাখির স্বর্গ হাজারিখিল! হারিয়ে যান পাখিদের সঙ্গে চিরসবুজ অরণ্যের মাঝে।

জেএমএস/এসইউ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]