যে দেশে কনে যায় বিয়ে করতে, ধূমপান করলেই হয় জেল

ভ্রমণ ডেস্ক
ভ্রমণ ডেস্ক ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৫৮ পিএম, ০৭ জুন ২০২৩

সৌন্দর্যের লীলাভূমি ভুটান। বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ। এ কারণে পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে ভুটানে। এ দেশে নেই কোনো দূষণ। কার্বন নেগেটিভ দেশগুলোর মধ্যে ভুটান অন্যতম। দেশের বাইরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভুটানকে বেছে নেন বেশিরভাগ পর্যটকরা।

যেহেতু ভুটান যেতে বাংলাদেশিদের ভিসা লাগে না, তাই প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক ভুটান ঘুরতে যান। সবচেয়ে ভালো খবর হলো, ট্রানজিট ভিসা থাকলে কম খরচেই ভুটান থেকে ঘুরে আসা যায়।

আরও পড়ুন: কম খরচে বাসে ভুটান ঘুরতে যাবেন যেভাবে

ভুটান এখনও বিশ্বের সবচেয়ে অনুন্নত দেশগুলোর একটি। ভুটানের ঐতিহ্যবাহী নাম হলো ‘দ্রুক ইউল’ যার অর্থ হলো স্বর্গের ড্রাগন। ভুটানের জাতীয় প্রতীক হলো ড্রাগন।

ভুটানের বেশ কিছু রীতিনীতি সম্পর্কে জানলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। জেনে নিন ভুটান সম্পর্কিত তেমনই আশ্চর্যজনক কিছু তথ্য-

১. জানলে অবাক হবেন, ভুটানে কোনো গৃহহীন মানুষ নেই বললেই চলে। অর্থাৎ কেউই রাস্তা বা ফুটপাতে বাস করেন না। যদি কেউ প্রাকৃতিক দুর্যোগে গৃহহীন হয়ে পড়েন, তাহলে রাজা তাকে ঘর ও চাষাবাদের জন্য একখণ্ড জমিও দান করেন।

আরও পড়ুন: অবিশ্বাস্য ‘লাল নদী’ দেখলেই জুড়াবে চোখ

২. ভুটানই পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানকার সড়কে কোনো ট্রাফিক লাইটের ব্যবহার নেই। তবে ট্রাফিক পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ চৌরাস্তাগুলোর মাঝখানে নির্মিত ট্রাফিক বক্সে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। এছাড়া সেখানে গাড়ির হর্ণও খুব কমই শুনতে পাওয়া যায়।

৩. ভুটান সম্পর্কিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ভুটানে নারীদেরই ঘর কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে দেখা যায়। তারা নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। এর পেছনে তাদের যুক্তি হলো, তাদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য নারীর ক্ষমতায়ন অপরিহার্য।

আর ভুটানের রীতি হলো নারীরা বিয়ে করে স্বামীকে তার ঘরে তুলে আনেন। অর্থাৎ কনেরাই বরের বাড়ি গিয়ে বিয়ে করে একেবারে তাকে নিয়ে আসেন।

আরও পড়ুন: মাউন্ট এভারেস্টে আরোহণের খরচ কত? রইলো অবাক করা সব তথ্য 

শুধু তাই নয়, অভিভাবকের সম্পত্তির সম্পূর্ণ ভাগ কন্যাসন্তানেরাই পেয়ে থাকেন। এ কারণে ভুটানে নারীদেরই রাজত্ব চলে।

৪. ভুটান খুবই পরিচ্ছন্ন একটি দেশ। সেখানে কিন্তু ধূমপান করলেই জেল-জরিমানা হতে পারে। ভুটানে উন্মুক্ত স্থানে ধূমপান করা নিষিদ্ধ।

এমনকি তামাকের চাষবাদ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণও আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। ২০১০ সালে এই বিষয়ে একটি আইন পাশ করা হয়। আইন অমান্যকারীকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়।

আরও পড়ুন: বিশ্বের যে স্থানে সেলফি তুলতে গিয়ে মারা গেছেন অনেকেই

৫. ভুটানের অধিকাংশ বাড়িগুলোই ৩ তলাবিশিষ্ট হয়। এসব বাড়ির নিচতলায় বাস করে গৃহপালিত প্রাণী, দ্বিতীয় তলায় মানুষ ও তৃতীয় তলায় রাখা হয় শস্যদানা ও খড়কুটো।

অর্থাৎ ভুটানে মানুষ ও প্রাণী একই বাড়িতে বাস করে। জীবজন্তুর প্রতি তাদের অগাধ ভালবাসা। তাইতো ভুটানে নেই কোনো কসাইখানা। কারণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জীব হত্যা মহাপাপ।

জেএমএস/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।