শ্যাওড়া গাছের জোড়া ঘোড়া দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৬:০৪ পিএম, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

শ্যাওড়া গাছকে বিশেষ উপায়ে কেটে-ছেটে ঘোড়ার আকৃতি দিয়ে জনগণকে মুগ্ধ করেছেন পাবনার চাটমোহরের এক বৃক্ষপ্রেমিক। দুলালুর রহমান নামের এ ব্যক্তি চাটমোহরের রেলওয়ে স্টেশনের পাশে অবস্থিত ভাই-বোন নার্সারির মালিক। নার্সারি গেটেই এ দৃষ্টিনন্দন জোড়া ঘোড়া তৈরি করেছেন তিনি। যা দেখতে অনেকে ভিড় করছেন। আবার অনেকে নিজ বাড়ির গেটে গাছের ঘোড়া তৈরির জন্য অর্ডারও দিচ্ছেন।

দুলালুর রহমান জানান, মূলত শখ করে তিনি এটি তৈরি করেছেন। গত এক বছরের চেষ্টায় তার শ্রমটি সার্থক হয়েছে। লোহার রড দিয়ে প্রথমে তিনি ওয়ার্কশপ থেকে ঘোড়ার আকৃতি তৈরি করে আনেন। চারপাশে জিআই তারের নেট লাগিয়ে দেন। এরপর তার নার্সারির গেটে সেটি স্থাপন করেন। এরই মধ্যে তিনি বেশ ক’টি গাছের ঘোড়া তৈরি করে দেওয়ার জন্য অর্ডার পেয়েছেন।

দু’সারি শ্যাওড়া গাছের উপর দাঁড়িয়ে আছে দুটি ঘোড়া। এলাকার অনেকে ঘোড়া দুটোকে ‘জোড় ঘোড়া’ বলেন। এ জোড় ঘোড়া দেখতে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসেন। এখন নার্সারির ভেতরের চেয়ে বাইরে দর্শনার্থীরা বেশি ভিড় করছেন। শুরুতে ব্যবসায়িকভাবে এটি করেননি দুলাল। নিছকই শখে করেছিলেন।

দুলাল জানান, এখন জনগণের অনুরোধে বাণিজ্যিকভাবে গাছের ঘোড়া বানিয়ে দিতে হচ্ছে। জনগণের চাহিদামত জায়গায় গিয়ে ঘোড়া বানিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি ৫০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। এরই মধ্যে ৪ বাড়িতে জোড় ঘোড়া তৈরির অর্ডার পেয়েছেন।

jagonews24

চাটমোহরের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম জানান, দুলালুর রহমানের নার্সারিতে এসে গেটের গাছের ঘোড়া দেখে তিনি বিমোহিত। দুলাল কেবল জোড় ঘোড়াই নয় অগ্নি ঝাউ, কাটা ঝাউ, কামিনী, মাধবীলতাসহ বেশ কিছু গাছ বিশেষ বিশেষ আকার দিয়ে ডিজাইন করেছেন। সেগুলো দেখেও তিনি মুগ্ধ।

পাশের উপজেলা ভাঙ্গুড়ার পাটুলিপাড়া থেকে এসেছিলেন আব্দুর রহিম। তিনি জানান, ঘোড়া দুটির মডেল গাছ দিয়ে তৈরি করা। এ যেন এক নিপুণ কারিগরের কাজ। অন্যান্য এলাকার অনেক দর্শনার্থী আসছেন। দেখতে এসে অনেকে সেলফিতে মেতে উঠছেন। অনেকে সিএনজি, মোটরসাইকেল থেকে নেমে জোড় ঘোড়া নিয়ে সেলফি তুলছেন।

পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আজাহার আলী জানান, একজন বৃক্ষপ্রেমিক এমন একটি কাজ করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। যেভাবেই তিনি তৈরি করেন না কেন; গাছ তো লাগিয়েছেন। সেগুলোর যত্ন-পরিচর্যা করে বিশেষ আকৃতি গঠন করেছেন। তার এমন ভালো কাজের সাফল্য কামনা করেন তিনি।

এসইউ/এএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]