হাওরে পানি নেই, পর্যটক কমেছে অলওয়েদার সড়কে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৩:৪২ পিএম, ০৪ অক্টোবর ২০২১

দেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে অন্যতম পছন্দের স্পট কিশোরগঞ্জ জেলার হাওরবেষ্টিত অষ্ট্রগাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলার সড়কপথ। সপ্তাহখানেক আগে পর্যন্ত ‘অলওয়েদার সড়ক’ খ্যাত রাস্তার দুপাশে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে হাওরের পানি থাকলেও বর্তমানে পানি শুকিয়ে হাওর এলাকা ধু ধু ময়দানে পরিণত হয়েছে।

এখন যতদূর চোখ যায় শুধুই ফাঁকা জমি। কোথাও কোথাও সবুজ ঘাস গজিয়েছে, কোথাও কাদা পানি জমে আছে। আবার কোথাও হাওরের শুকনো জমির আইল ধরে হেঁটে যাচ্ছে মানুষ।

এ কারণে এ তিন উপজেলায় আগত পর্যটকের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। অনেকেই না জেনে এসে কিছুটা হতাশা নিয়ে ফিরছেন। তবে যারা আসছেন তারা ব্যাটারিচালিত গাড়ি ভাড়া করে অলওয়েদার সড়ক ঘুরে আনন্দে সময় কাটিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

Itna-3.jpg

শুক্রবার (১ অক্টোবর) সরেজমিন পরিদর্শনকালে এ দৃশ্য চোখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পর্যটকদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, বর্তমানে এ তিন উপজেলা হাওরের বিভিন্ন স্থানে চর জেগেছে। এ কারণে অনেকটা পথ ঘুরে আসতে হয়। এতে সময় যেমন বেশি লাগে তেমনি গরমে পর্যটকদের কষ্টও হয়।

শুক্রবার সরেজমিন অষ্টগ্রামের আশপাশে ঘুরে দেখা গেছে স্বল্প সংখ্যক পর্যটক এলাকাটি ঘুরে দেখছেন। রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, করোনার কারণে পরিবার নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়নি। ছেলেমেয়েরা ইউটিউবে অলওয়েদার সড়ক ও সড়ক সংলগ্ন হাওরের পানি দেখে এখানে ঘুরতে আসার আবদার করে। প্রচন্ড গরমে কষ্ট করে এখানে এসে দেখি হাওরে পানি নেই!

jagonews24

তিনি বলেন, হাওরে পানি না থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে খুব ভালো লেগেছে। হাওরে পানি থাকলে যে আরও সুন্দর লাগতো, তা সহজেই বোঝা যায়।

অষ্টগ্রামের বাসিন্দা মোবারক আলী বলেন, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও হাওরে পানি ছিল। সড়কের দুপাশে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে পানি আর পানি দেখা যেতো। কিন্তু গত কয়েকদিনের গরম আবহাওয়ায় পানি শুকিয়ে যাওয়ায় পর্যটকের সংখ্যাও অনেক কমে গেছে।

তিনি জানান, এক সময় বছরের ছয়মাস পানির নিচে ডুবে থাকলেও হাওরের বুকচিরে দৃষ্টিনন্দন সড়ক নির্মাণের ফলে বর্তমানে এ তিন উপজেলায় সারাবছর নির্বিঘ্নে চলাচল সম্ভব হচ্ছে। ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম উপজেলায় ১ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ‘অলওয়েদার সড়ক’।

এমইউ/এমএইচআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]