শীতের ঠান্ডা হাওয়া মিলিয়ে গেছে, তার সঙ্গে এসেছে বসন্তের কোমল সূর্য। কিন্তু এই রঙিন ঋতুর আগমন যেমন আনন্দের, তেমনই এটি চোখের জন্য কিছু অপ্রত্যাশিত সমস্যা নিয়ে আসে। শীতকালে খোলা বা রোদ কম থাকার কারণে চোখ অনেক সময় শুকিয়ে যায়, লাল হয়ে যায়, চুলকানি বা পানি পড়া শুরু হয়। বসন্তের সঙ্গে আসা ধুলো, পরাগকণা আর বাতাসের আর্দ্রতা এই সমস্যাগুলোকে আরও বাড়িয়ে দেয়। রোজকার ব্যস্ততার মাঝে চোখ লালচে হয়ে ওঠে, চুলকানি ধরে, কখনও কখনও অপ্রত্যাশিত পানি পড়া শুরু হয়।
চোখের এই ছোট কিন্তু জটিল সমস্যা নিয়ে নানা উপকারী তথ্য দিয়েছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা। তিনি বলেন, ঋতুর পরিবর্তন শুধু ত্বক বা শরীরের জন্যই নয়, চোখের জন্যও বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। শীত বিদায়ের সঙ্গে বাতাস শুকনো থাকে, আর বসন্তে আসে পরাগকণা ও ধূলির সঙ্গে। এই সব মিলিয়ে চোখ আরও সংবেদনশীল হয়।
ডা. নীলার মতে, চোখ ওঠার প্রধান কারণ হলো চোখের আর্দ্রতা হ্রাস। শীতকালে কম আলো ও শুকনো বাতাস চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। আর বসন্তে ধূলিকণা ও পরাগকণা চোখের ঝিল্লি জ্বালা, লালচে ভাব এবং চুলকানির ঝুঁকি বাড়ায়। কখনও কখনও চোখে পানি পড়া এই সংক্রমণ বা অ্যালার্জির প্রথম সংকেত হতে পারে।
ডা, নীলা বলেন, অনেকেই ভাবেন চোখে লালচে ভাব বা পানি পড়লে নিজে থেকে ড্রপ ব্যবহার করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তা নয়; যেকোনো ধরনের চক্ষু সংক্রমণ বা অ্যালার্জি থাকলে ভুল চিকিৎসা চোখের জন্য আরও ক্ষতিকর হতে পারে।
প্রচুর পানি পান করুন: চোখের শুষ্কতা প্রায়শই অভ্যন্তরীণ শুষ্কতার কারণে। দিনে ৮-১০ গ্লাস পানি চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।কৃত্রিম চোখের জল ব্যবহার করুন: চোখ লালচে বা চুলকানি হলে, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কৃত্রিম চোখের জল ব্যবহার করা উচিত।পরাগ ও ধূলি থেকে চোখকে রক্ষা করুন: বাইরে বের হলে চশমা বা সানগ্লাস ব্যবহার করুন।স্ক্রিনের সময় সীমিত করুন: মোবাইল বা কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘ সময় থাকলে চোখ আরও শুষ্ক হয়। প্রতি ২০ মিনিট পর চোখ বন্ধ করে দূরে তাকান।পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন: চোখের আর্দ্রতা এবং স্বাভাবিক পুনরায় ক্ষত নিরাময় জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য।
ছোট কিন্তু কার্যকরী অভ্যাস চোখের ওপর ঠান্ডা বা উষ্ণ কম্প্রেস ব্যবহার করুন। ঘরে আর্দ্রতা বাড়াতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন। চোখের ব্যায়াম করুন, যেমন চোখের পলক বাড়ানো বা দৃষ্টি দূরে-নিয়ে আসা।ডা. নীলা আরও উল্লেখ করেন, ঋতুর পরিবর্তনের সময় চোখের লালচে ভাব, চুলকানি বা পানি পড়া যদি দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে নিজে থেকে কোনো ড্রপ ব্যবহার না করে অবিলম্বে চক্ষু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। তা না হলে চোখের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
শীত বিদায় নিয়েছে, বসন্ত এসেছে আলো, রঙ, ফুল ও পরাগের সঙ্গে। এই সুন্দর ঋতুতে চোখের যত্ন নেওয়া শুধু চোখের স্বাচ্ছন্দ্যই নিশ্চিত করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে চোখের স্বাস্থ্যও রক্ষা করে। চোখ ওঠা বা শুষ্কতা যেন নিত্যসঙ্গী না হয়, সেই জন্য সচেতন হওয়া এখনই সময়।
জেএস/