মিরসরাইয়ে ড্রাগন চাষে ঝুঁকছেন উদ্যোক্তারা

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
প্রকাশিত: ০১:৫৯ পিএম, ২১ জুন ২০২২

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ড্রাগন চাষে ঝুঁকছেন উদ্যোক্তারা। অনেকে শুরুতে শখের বশে এ ফলের চাষ শুরু করলেও এখন বাণিজ্যিকভাবে আবাদ করছেন। বহুমুখী গুণে গুণান্বিত পুষ্টিকর ফল ‘ড্রাগন’। ফলটির বৈজ্ঞানিক নাম হাইড্রোসেনাস এন্টেটাস।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় বিভিন্ন পতিত জমিতে ড্রাগন আবাদ হচ্ছে। এবছর প্রায় ৫ একর জমিতে ড্রাগন চাষ করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৪ একর জায়গায় আবাদ করেছে নাহার এগ্রো গ্রুপ। অন্যরা কেউ ১০ শতক, কেউ ১৫ শতক জায়গায় আবাদ করেছেন।

জানা গেছে, মিরসরাইয়ে নাহার এগ্রো গ্রুপের বিভিন্ন প্রজেক্টে গত এক দশক ধরে ড্রাগন ফল চাষ হচ্ছে। প্রথমে নিজেদের খাওয়ার জন্য ছোট পরিসরে চাষ করলেও বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ করছেন বলে জানান প্রতিষ্ঠানের জিএম (প্রোডাকশন) মো. আতিকুল হক। তিনি জানান, নাহার এগ্রো গ্রুপের পশ্চিম অলিনগর, সোনাপাহাড়, করেরহাট, কুমিরা ও ফটিকছড়ি প্রকল্পে প্রায় ৪ একর জায়গায় ড্রাগন ফলের বাগান রয়েছে।

মিরসরাইয়ে ড্রাগন চাষে ঝুঁকছেন উদ্যোক্তারা

গত বছর প্রায় ৩০ লাখ টাকার ড্রাগন বাজারজাত করেছি। এর বাইরে সৌজন্য দেওয়া হয়েছে কয়েক লাখ টাকার ড্রাগন। গত বছর ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা ধরে কেজি বিক্রি করলেও এবার দাম কিছুটা কমে গেছে। এবছর ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় প্রতি কেজি ড্রাগন বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি এবার ২৫ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করতে পারব।

জানা যায়, অনেকটা শখের বশে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেছিলেন নাহার এগ্রো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুর রহমান টুটুল। শতভাগ সফলও হয়েছেন। এখন বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন আবাদ করছেন তিনি। রাকিবুর রহমান টুটুল পরিবার নিয়ে থাইল্যান্ড সফরকালে এই ড্রাগন ফলটির চাষাবাদ ও পুষ্টিগুণ দেখে বাংলাদেশের আবহাওয়ায়ও চাষাবাদ সম্ভব জেনে কয়েকটি কাটিং নিয়ে আসেন। এরপর মিরসরাইয়ের সোনাপাহাড় এলাকার নাহার এগ্রো হ্যাচারির পতিত জমিতে চাষ শুরু করেন।

মিরসরাইয়ে ড্রাগন চাষে ঝুঁকছেন উদ্যোক্তারা

রকিবুর রহমান টুটুল বলেন, এক দশক আগে আমি লক্ষ্য করেছিলেন আমাদের দেশে বিদেশি ফল ড্রাগনের চাহিদা রয়েছে। সুপারশপগুলো চড়া দামে এসব ফল বিক্রি করত। যেহেতু বিদেশ থেকে আমদানি করা হত, তাই ফলগুলো তাজা থাকত না। তাছাড়া তাজা রাখার জন্য কেমিক্যাল ব্যবহার করার বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

দেশের মানুষকে তাজা এবং কেমিক্যালমুক্ত ড্রাগন খাওয়াতে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০৯ সালে প্রথমে তিনি থাইল্যান্ড থেকে দুইটি চারা এনে মিরসরাইয়ে নাহার ডেইরি ফার্মের পুকুর পাড়ে লাগান। ওই গাছ দুইটি বড় হলে সেখান থেকে শাখা কাটিং করে ধীরে ধীরে বাগান বড় করেন। এখন ৪ একর জায়গায় ড্রাগন চাষ হচ্ছে।

উপজেলার ওয়াহেদপুরে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষে সফলতা পেয়েছে বিপ্লব কান্তি শর্মা। পেশায় একজন স্বর্ণকার হয়েও ইউটিউব দেখে শখের বশে ২০২০ সালে নাটোর থেকে চারা ৭০০ চারা সংগ্রহ করে ৫ একর জমিতে বারি-১ জাতের ড্রাগনের বাগান তৈরি করেন। চলতি বছর ২ বছরের মাথায় তার বাগানের সব কয়টি গাছেই ফুল ও ফল আসতে শুরু করেছে। স্বল্প পরিসরে বিক্রিও করেছেন। পুরোদমে ফল বিক্রয়ে সময় লাগবে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন।

মিরসরাইয়ে ড্রাগন চাষে ঝুঁকছেন উদ্যোক্তারা

বিপ্লব কান্তি জানান, বাগানটি তৈরি করতে তার খরচ হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আশা করছি ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে বাগান তৈরি খরচ উঠাতে পারব। তবে ছত্রাকজনিত রোগে একটু সমস্যা হলেও উপজেলা কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ৫ একরের বাগানটির প্রতিটি গাছে ফুল ও ফল এসেছে। কিছু ফল বিক্রয় উপযোগী হয়ে গেছে। ড্রাগনের পাশাপাশি সাথী ফল হিসেবে বাগানটিতে হয়েছে পেঁপে ও কমলালেবু গাছ।

মিরসরাইয়ে ড্রাগন চাষে ঝুঁকছেন উদ্যোক্তারা

এছাড়া ড্রাগনের আবাদ করেছেন সোনাপাহাড় এলাকায় ফিরোজ খান, ঘরতাকিয়ায় সিরাজ উদ্দিন মাসুদ, আজম নগরে মুছা মিয়া, পূর্ব মঘাদিয়ায় শামিমা আক্তার, মসজিদিয়ায় রাসেদুল ইসলাম, পদুয়ায় মো. সালা উদ্দিন ও খিলমুরালীতে আলী আকবর জীবন।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা জানান, ড্রাগন ফলের পুষ্টি অনেক। সব ধরনের মাটিতেই ড্রাগন ফল চাষ করা যায়। তবে জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ বেলে-দোআঁশ মাটিই ড্রাগন চাষের জন্য উত্তম। মিরসরাইয়ে দিনদিন ড্রাগনের আবাদ বাড়ছে। আমাদের কয়েকটি প্রদর্শনী বাগান রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের সবসময় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

এমএমএফ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]