আলুর বাম্পার ফলনেও দামে হতাশ জয়পুরহাটের চাষিরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জয়পুরহাট
প্রকাশিত: ১২:২২ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মাটির বুক চিরে বের হচ্ছে সোনালি আলু, ছবি: জাগো নিউজ

মাঠে মাঠে আলু তোলার ধুম। মাটির বুক চিরে বের হচ্ছে সোনালি আলু। কিন্তু জয়পুরহাটের কৃষকদের চোখেমুখে নেই চিরাচরিত হাসির ঝিলিক। ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের চাষিরা। দিন যত যাচ্ছে, বাজারে আলুর দর পতন হচ্ছে। বর্তমান বাজারে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, বিঘাপ্রতি বড় অঙ্কের লোকসান গুণতে হচ্ছে কৃষকদের। ফলন ভালো হলেও দামের এই অস্থিতিশীলতা নিয়ে চিন্তিত কৃষি বিভাগও।

জেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা আলু তুলছেন ঠিকই কিন্তু বিক্রির সময় তাদের দীর্ঘশ্বাস ভারী হচ্ছে। কৃষকদের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষে সার, বীজ ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে যে বাজারদর; তাতে প্রতি বিঘার আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ বিঘাপ্রতি লোকসান দাঁড়াচ্ছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

potato

স্থানীয় বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে সাদা আলু এবং সৃটিক জাতের প্রতি মণ আলু মাত্র ২২০ থেকে ২৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর গ্যানোলা জাতের আলু বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা। সিন্ডিকেট নাকি চাহিদার অভাব; ঠিক কী কারণে এই আকস্মিক দরপতন, তা নিয়ে কৃষকদের মনে জন্ম নিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। চাষিরা বলছেন, সরকারিভাবে আলু রপ্তানি করা গেলে এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতো না।

মাঠেই আলু বিক্রি করতে আসা কৃষক জয়নাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‌‘কয়েকদিন আগেও এক মণ আলু ৫৫০ টাকায় বেচেছি। এখন সেই আলু ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় নামছে। বাজারে প্রতিদিন মণে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে দাম কমছে। আমরা কৃষক এখন যাবো কোথায়?’

potato

কৃষক সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা জাগো নিউজকে বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে প্রান্তিক চাষিদের কথা চিন্তা করে আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

জয়পুরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি শামস মতিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকার যদি ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে দেয়, তবে এখানে অনেক উদ্যোক্তা গড়ে উঠবে। এতে আলু বিদেশে রপ্তানি করা সহজ হবে এবং কৃষকরাও লোকসানের হাত থেকে বাঁচবেন।’

potato

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার জেলায় ৩৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। জেলায় আলুভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা যায়। তাহলে যেমন কর্মসংস্থান হবে; তেমনই চাষিরা আলুর ন্যায্যমূল্য পাবেন। এতে সরকারও বড় অঙ্কের রাজস্ব পাবে।’

মাহফুজ রহমান/এসইউ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।