দিনাজপুরে ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণের ধুম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৮:৩৩ এএম, ০৬ মার্চ ২০২৬
ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণের ধুম পড়েছে, ছবি: জাগো নিউজ

দিনাজপুরে সরিষা ও আলু উত্তোলনের পর শেষ সময়ে এসে ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণের ধুম পড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ইরি-বোরোর বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছে কৃষক ও কৃষি বিভাগ। তবে সার, বিদ্যুৎ ও গভীর নলকূপের মালিকানা জটিলতায় কৃষকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জেলায় এবার এক লাখ ৭৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উফশি এক লাখ ১৭ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে এবং হাইব্রিড ৫৯ হাজার হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে চাল উৎপাদন হবে প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন।

দিনাজপুর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৩টি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় ৫৭ হাজার ৭৮৮ হেক্টর, বীরগঞ্জে ১৪ হাজার ৯৫৫ হেক্টর, কাহারোলে ৫ হাজার ৭৫৮ হেক্টর, খানসামায় ৪ হাজার ৫৬৫ হেক্টর, চিরিরবন্দরে ১৮ হাজার ৭০৪ হেক্টর, বোচাগঞ্জে ৯ হাজার ২৫৫ হেক্টর, বিরল উপজেলায় ১৩ হাজার ৩৬৪ হেক্টর, পার্বতীপুরে ২৪ হাজার ৩৫০ হেক্টর, ফুলবাড়ীতে ১৪ হাজার ৫৮৫ হেক্টর, নবাবগঞ্জে ১ হাজার ৮৮০ হেক্টর, বিরামপুরে ১ হাজার ৬৪০ হেক্টর, হাকিমপুরে ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং ঘোড়াঘাটে ৯ হাজার ৯৩৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১০৩টি ইউনিয়নে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সাব-ডিলার ১৭২ জন এবং বিসিআইসি ডিলার ১৩৩ জনসহ মোট ৩০৪ জন ডিলার সার বিক্রি করবেন।

rice

তবে বিভিন্ন জায়গায় সার নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন কৃষকেরা। কৃষক পরিমাণমতো সার পাচ্ছেন না। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টায় চিরিরবন্দর উপজেলার আমতলী বাজারে ৭টি ভ্যানে থাকা ৮৩ বস্তা রাসায়নিক সার নিয়ম বহির্ভূতভাবে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় নিয়ে যাওয়ার সময় আটক করা হয়। অথচ চিরিরবন্দর থানার কৃষকেরা সার পাচ্ছেন না।

এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে সদর উপজেলার কমলপুর ইউনিয়নের কমলপুর বাজারে কৃষকেরা সার না পেয়ে সার ডিলারের অফিস ঘেরাও করে কয়েকশ কৃষক। কৃষকেরা জানান, পর্যাপ্ত পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে না। ১০ বস্তা প্রয়োজন হলে পাওয়া যাচ্ছে ১ থেকে ২ বস্তা। সার ডিলাররা কৌশলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে খোলা বাজারে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে বাধ্য হয়ে কৃষককে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।

এদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়েছে। এতে সেচ দিতে কৃষকদের হয়রানী হতে হচ্ছে। রাতের পর রাত জেগে সেচ নিতে হচ্ছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি ফুলবাড়ীতে মালিকানাসংক্রান্ত জটিলতায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের ছয়টি গভীর নলকূপ (সেচপাম্প) বন্ধ হয়ে পড়েছে। সেচের অভাবে বোরো ধানের জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়ায় পানির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

rice

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. আনিছুজ্জামান জানান, জেলার ১৩টি উপজেলার ১০৩টি ইউনিয়নে ইরি-বোরো ধানের উৎপাদন সফল করতে কৃষি বিভাগ নানামুখী কার্যক্রম শুরু করেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বীজতলা ভালো হওয়ার কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

তিনি বলেন, ‘যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে; সেগুলো সমাধান করা হয়েছে। জেলায় এবার ব্যাপকভাবে ব্রি-৯০ জাতের ধানের আবাদ হচ্ছে। কৃষকেরা আমনে ব্রি-৩৪ জাতের চিকন ধান চাষ করে দাম ভালো পাওয়ায় ব্যাপকভাবে ব্রি-৯০ জাতের চিকন ধানের চারা রোপণ করছেন।’

এএমএইচএম/এসইউ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।