ভিয়েতনামি সরিষা ও সুপার ফুড কিনোয়ার বাম্পার ফলন
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় প্রথমবারের মতো ভিয়েতনামি সরিষা ও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত সুপার ফুড কিনোয়া চাষ করে সফলতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কৃষক মো. তামজিদ হোসেন। উপজেলার নহাটা ইউনিয়নের পানিঘাটা ব্লকে এই নতুন জাতের ফসল দুটির বাম্পার ফলন দেখে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
নহাটা ইউনিয়নের বেজড়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মো. তামজিদ হোসেন জানান, আধুনিক কৃষির প্রতি আগ্রহ থেকে তিনি ইন্টারনেটে ভিয়েতনামি সরিষার গুণাগুণ সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর অনলাইনের মাধ্যমেই বীজ সংগ্রহ করেন। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতায় তিনি ১৫ শতক জমিতে এই সরিষার আবাদ করেন।
তামজিদ হোসেন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘ভিয়েতনামি সরিষার ফলন সাধারণ জাতের তুলনায় বেশ ভালো। মাত্র ১৫ শতক জমি থেকে আমি ৫ মণ সরিষা পাবো বলে আশা করছি।’
আরও পড়ুন
চিনির বিকল্প ‘স্টিভিয়া’, লাভজনক ফসলের নতুন দিগন্ত
সরিষার পাশাপাশি তামজিদ তার প্রায় ১৩ শতক জমিতে চাষ করেছেন বিদেশি উচ্চমূল্যের ফসল কিনোয়া। যাকে বিশ্বজুড়ে সুপার ফুড হিসেবে গণ্য করা হয়। কম খরচে এবং কম পরিশ্রমে এই ফসলের চমৎকার বৃদ্ধি দেখে তিনি উচ্ছ্বসিত।

নহাটা ইউনিয়নের পানিঘাটা ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. এমলাচুর জামান জানান, তামজিদ হোসেন একজন উদ্যমী কৃষক। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে কৃষি বিভাগ শুরু থেকেই পাশে আছে। তিনি বলেন, ‘তামজিদ হোসেনকে আমরা নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি। রবি মৌসুমের ফসলগুলো চাষ করে তিনি লাভবান।’
বিশেষ করে কিনোয়া মানবদেহের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর ও উপকারী। তার সাফল্য দেখে অন্যরাও এখন এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ভিয়েতনামি সরিষা সাধারণ সরিষার চেয়ে ফলন বেশি এবং জীবনকাল সাশ্রয়ী। কিনোয়ায় প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার এবং অ্যামিনো অ্যাসিড থাকায় এর বাজারমূল্য অনেক বেশি।
মহম্মদপুরের মাটিতে নতুন জাতের এই ফসলের সফল আবাদ আগামীতে এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/এসইউ