চাকরি না পেয়ে অবশেষে কৃষিতে সফল সোহাগ

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
প্রকাশিত: ১১:০৪ এএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

লেখাপড়া করে শুধুই চাকরির পেছনে ছুটতে হবে বা চাকরিই করতে হবে এরকম কোনো কথা নেই। লেখাপড়া শেষ করে নিজের মেধা আর পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে চাইলে অন্যভাবে ও সফল হওয়া যায়। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ শায়েস্তাগঞ্জের সফল একজন উদ্যোক্তা মো. সোহাগ মিয়া।

সোহাগ মিয়া হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নিশাপট গ্রামের মো. শাহ আলমের পুত্র। তিনি হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজ থেকে একাউন্টিংয়ে এমবিএ শেষ করেছেন, বর্তমানে তার বয়স প্রায় ২৯। তিনি লেখাপড়া শেষ করে প্রায় চার বছর চাকুরির জন্য ঘোরাফেরা করেছেন, অবশেষে চাকরি না পেয়ে নিজের প্রচেষ্টাকে অন্যভাবে কাজে লাগিয়ে হয়েছেন একজন সফল চাষি।

জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে তিনি কৃষি কাজে সময় দিচ্ছেন। নিজের জমিতেই গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন রকম শাক-সবজির বাগান। তার বাগানে উল্লেখযোগ্য সবজি হচ্ছে করলা, টমেটো ও শিম। সোহাগ মিয়া এ বছর ৬০ শতক জমিতে চাষ করেছেন শিম। এবার তার জমিতে শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। সবকিছু ঠিক ঠাক থাকলে এবার শিম বিক্রি আসতে পারে দুই লাখ টাকার।

তার শিম ফলাতে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকার মত। প্রাকৃতিক পরিবেশে সম্পুর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে তিনি চাষ করেছেন শিম। তার জমিতে কোনোরকম কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি, ফলে একদম দেশীয় স্বাদে ক্রেতারা শিম কিনে খেতে পারবেন। সোহাগ মিয়ার জমিতে ৪-৫ জন শ্রমিক কাজ করে। তার কৃষি কাজে তাকে সহায়তা করে আসছেন তার মা ও বোন।

সোহাগের কৃষি ফার্মে কর্মরত শ্রমিক আনজব আলী বলেন দৈনিক ৪শ টাকা মজুরিতে কাজ করেন এখানে। এই টাকা দিয়েই সংসার চালান তিনি। সৌদিআরব ১৮ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে আসেন একই গ্রামের ফরিদ মিয়া।

দেশে এসে কি করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। মোরগের ফার্ম দিয়ে লোকসান হল অনেক টাকা। সোহাগের বিভিন্ন সবজির চাষ দেখে উৎসাহ পেলেন। নিজেও করলেন বিভিন্ন রকম সবজির চাষ। এতে করে এখন ফরিদ মিয়া ও ভালো টাকা আয় করছেন।

jagonews24

সোহাগের মা রেজিয়া খাতুন বলেন উচ্চশিক্ষিত ছেলে যখন চাকরি পাচ্ছিল না তখন খুবই দুশ্চিন্তায় পড়লেন। পরে ছেলে যখন কৃষি কাজে মনোনিবেশ করলে তখন তিনিও সহযোগীতা করতে লাগলেন। এখন আর কোনো চিন্তা নাই তার। ছেলে এখন সফল কৃষক। ছেলের চাষ করা নানা রকমের সবজি বিক্রি করে অনেক টাকা আয় হয় তাদের।

এ বিষয়ে সোহাগ মিয়া বলেন একাউন্টিং এ এমবিএ শেষ করে চার বছর চাকরির পিছনে ছুটেছি। কিন্তু চাকরি জুটলোনা ভাগ্যে। পরে পারিবারিক জমিতে টমেটো, করলা ও শিমের চাষ শুরু করি। সম্পূর্ণ অর্গানিক প্রদ্ধতিতে সবজির চাষ করি।

যে কারণে উৎপাদন খরচ অনেক কম হয়। আর বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে পারি। টমেটো আর করলা চাষ করার পরে এবার শিমের চাষ করেছি। শিম চাষে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা মতো। আল্লাহর রহমতে বাম্পার ফলন হয়েছে। আশা করছি ২ লাখ টাকার শিমের বিচি বিক্রি করতে পারবো। ৪ বছর চাকরির পিছনে না ঘুরে কৃষি কাজ করলে এতোদিনে অনেক টাকা আয় করতে পারতাম।

আমাকে দেখে গ্রামে অনেকেই এখন বিভিন্ন রকমের সবজি চাষ শুরু করেছেন। একই সাথে আমার ফার্মে কাজ করে ৪ থেকে ৫টি পরিবারের কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সহযোগীতা পেলে তিনি আরও জমিতে নানান ধরনের সবজি চাষের উদ্যোগ নিবেন।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর বলেন উচ্চ শিক্ষিত সোহাগ এখন অনেকেরই অনুপ্রেরণা। চাকরি পেতে ব্যর্থ হলেও তিনি কৃষিতে সফল। তার মতো শিক্ষিত বেকার যুবকরা যদি কৃষি কাজে এগিয়ে আসেন তাহলে দেশে কৃষিতে বিপ্লব হবে।

আমি অনেকেই উৎসাহ দেই কৃষি কাজ করার জন্য। সাথে সব ধরনের সহযোগিতা। যে কেউ পরার্মশ চাইলে আমি সহযোগিতা করি। সোহাগের সরকারি সহয়তার বিষয়ে তিনি বলেন উনি চাইলে আমি অব্যশই সহযোগিতা করবো।

কামরুজ্জামান আল-রিয়াদ/এমএমএফ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]