বিলুপ্ত হচ্ছে সুস্বাদু বঁইচি ফল গাছ

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:০২ এএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি জনপ্রিয় ফল কাঁটাবহরী বা বঁইচি। গ্রামগঞ্জে সাধারণত ক্ষেতের পাশে ঝোপঝাড়ে বঁইচি বেশি জন্মায়। অনেক সময় পাহাড়ের ঢালেও জন্মে। গাছ ঝোপালো এবং গাছের শাখা কাঁটাযুক্ত। এ কারণে বঁইচি কাঁটাবহরী নামেও পরিচিত। বর্তমানে বন উজাড় হওয়ায় গাছটি বিলুপ্ত প্রজাতির তালিকায়।

সাধারণত ফাল্গুন-চৈত্র মাসে বঁইচি গাছে ফুল ধরে। পাঁচ পাপড়িযুক্ত ক্ষুদ্রাকৃতির ফুল। জ্যৈষ্ঠ থেকে ফল পাকতে শুরু করে। কাঁচা ফল গোলাকার সবুজ। পাকলে রক্ত বেগুনি রঙ ধারণ করে। দেখতে অনেকটা কালো জাম ফলের মতো। গোলাকার আঙুরের মতো বঁইচি খেতে অম্ল ও স্বাদযুক্ত। বৈজ্ঞানিক নাম Slacourtia Indica, পরিবার Slacourtiaceae। ইংরেজি নাম Raymond siason ।

বঁইচি গাছের মূলের রস নিউমোনিয়া এবং পাতার নির্যাস জ্বর, কফ ও ডাইরিয়া নিরাময়ে ব্যবহূত হয়। পাতা ও মূল অনেকে সাপের কামড়ের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করে। বাকলের অংশ তিলের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে বাতের ব্যথা নিরাময়ে মালিশ তৈরি করা হয়। কিন্তু জনপ্রিয় এ ফল এখনো বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত শুরু হয়নি। প্রচুর পুষ্টি ও ঔষধিগুণসমৃদ্ধ এ ফলগাছ রক্ষায়ও কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বঁইচি নিয়ে দেশে ব্যাপক-বিস্তৃত কোনো গবেষণা না হলেও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুব রব্বানী পাঁচ বছর ধরে বঁইচি ফল নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন। বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় গুরুত্বপূর্ণ ফল বঁইচি। বঁইচি ফল বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে প্রাকৃতিক ভাবে জন্মে। অবহেলা, অযত্ন এবং নির্বিচারে কেটে ফেলার কারণে বঁইচি ফলটি অনেকটা বিলুপ্তির পথে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এ ফলের পুরুষ এবং স্ত্রী দুই ধরনের গাছ রয়েছে। জোড় কলম এবং শাখা কলমের মাধ্যমে স্ত্রী গাছের বংশবিস্তার করে দু-তিন বছরের মধ্যে ফল পাওয়া সম্ভব। বাজারে এ ফলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কারণ এতে আছে ভিটামিন, মিনারেল এবং এন্টিঅকি্রাডেন্ট। বর্তমানে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টারে ১০টি মাতৃগাছ, ৫০টি জোড় কলম এবং ২০০ এর অধিক চারা আছে। আমাদের প্রয়োজনেই এই বঁইচি ফল গাছ সংক্ষরণ ও চাষে এগিয়ে আসতে হবে।w

এমএমএফ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]