রসুন চাষে হতাশ শরীয়তপুরের কৃষকরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৩:৪৮ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০২২

ক্ষেত থেকে রসুন সংগ্রহ করা শেষ হয়েছে শরীয়তপুরের কৃষকদের। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এবছর রসুন ছোট আকৃতির হয়েছে। তাই দাম কম পাচ্ছেন এ জেলার কৃষকরা। অন্যদিকে বাজার মূল্যও কম হওয়ায় কৃষকরা হতাশ হয়েছেন। বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করে লাভের বদলে এখন লোকসান গুনছেন তারা। তাই ঋণ পরিশোধ করতে অনেকেই রসুন বিক্রি করে দিচ্ছেন।

কৃষকদের কাছ থেকে জানা যায়, এবছর আশানুরূপ ফলন পাননি তারা। এরপর বাজারে দাম না পাওয়ায় আরও হতাশ কৃষকরা। তাই তাদের মাথায় হাত। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় রসুন উৎপাদন কম হয়েছে। বাজারে পাচ্ছেন না প্রত্যাশিত দাম। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি রসুনের দাম ধরা হয়েছে ৩০-৩৫ টাকা। যা উৎপাদন খরচের চেয়ে অর্ধেক দাম। প্রতি বিঘা জমিতে রসুন ফলাতে ব্যয় হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা।

জাজিরা সেনেরচর এলাকার কৃষক হাকিম দেওয়ান বলেন, এ বছরের প্রথম যখন রসুন লাগানো হয়েছে তখন বৃষ্টি হয়েছিল। বৃষ্টিতে সব রসুনের চারা পচে যায়। পরে আবার সেগুলো উঠিয়ে নতুন করে লাগানো হয় রসুন। লাগানোর পর দীর্ঘ সময় খড়ার কারণে রসুন আকারে ছোট হয়েছে। গত বছর ৩৩ শতাংশে রসুন হয়েছিল ৬০ মণ করে যা এবার হয়েছে ২০ থেকে ২৫ মণ। বাজারে রসুনের দাম ৩০-৩৫ টাকা। যা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক কম।

নড়িয়া উপজেলার ঠাকুরকান্দি গ্রামের কৃষক ইমরান হোসেন বলেন, চলতি বছর তিনি ২০০ শতাংশ জমিতে রসুন আবাদ করেছেন। খরচ হয়েছে সোয়া দুই লাখ টাকা। দাম কম হওয়ায় এক লাখ টাকার মতো বিক্রি করতে পারবেন। এতে তার সোয়া লাখ টাকা ক্ষতি হবে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি রসুন চাষ করেছেন। এখন ঋণ পরিশোধ নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছেন।

jagonews24

একই গ্রামের রুবেল মিয়া বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় রসুনের ভালো ফলন হয়নি। প্রতি বিঘা জমিতে ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু যা খরচ হয়েছে, বিক্রি করতে গেলে বাজার মূল্য অর্ধেক দাম। আমরা লাভের বদলে লোকসান গুনছি।

জাজিরা উপজেলার মিরাশার এলাকার কৃষক সুমন হোসেন ও মামুন হোসেন জানান, তারা ৮ বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়নি। বাজার মূল্যও কম, তাই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর রসুনের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমি। কিন্তু আবাদ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে। তবে জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলায় রসুনের চাষ বেশি হয়। কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকিও ছিল।

জাজিরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জামাল হোসেন বলেন, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের কাছ থেকে আমরা যে তথ্য পেয়েছি সেটা হচ্ছে, অন্যান্য বছর রসুনের যে উৎপাদন মৌসুম সেই সময় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ছিল। এবার গত ৫ ডিসেম্বর বৃষ্টি হওয়ার পর আর তেমন বৃষ্টিপাত নেই। দীর্ঘসময়ে বৃষ্টি ছিল না।

যার কারণে সেচের একটা সমস্যা ছিল। তাই রসুন আকৃতিতে ছোট হয়েছে। এছাড়া বছরের প্রথম যখন রসুন লাগানো হয়েছে তখন বৃষ্টি হয়েছিল। তখন লাগানো রসুন পচে যায়। পুনরায় আবার রসুন লাগাতে হয়েছে। এখন রসুনের দাম কম, আশা করি কিছুদিন পর কৃষকরা ভালো দাম পাবেন।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপ-পরিচালক মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, দেশি রসুনের চেয়ে চায়না রসুনের দাম কিছুটা কম। তাই কৃষকরা দাম পাচ্ছে না। চলতি বছর জেলায় ৩ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে রসুন আবাদ করা হয়েছে।

মো. ছগির হোসেন/এমএমেএফ/এসইউ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]