ফ্যাসিস্টদের সামনে বসিয়ে গণভোটের আলোচনা প্রহসন: সালাহউদ্দিন আম্মার

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৬:১৩ এএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘গণভোট-২০২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার–প্রচারণা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এ সময় রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬১ জন শিক্ষককে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে তাদের নাম প্রকাশ করেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) যৌথ আয়োজনে গণভোট বিষয়ক এ মতবিনিময় সভা হয়।

রাবির সিনেট ভবনে রাবি, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়সহ ২১টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে গণভোট বিষয়ক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা। তার বক্তব্যের পরই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। পরে তিনি কিছু কাগজ হাতে মঞ্চের সামনে এসে সঞ্চালনাকারী রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদের নিকট বক্তব্য দেওয়ার জন্য এক মিনিট সময় চেয়ে অনুরোধ জানান। তবে সঞ্চালক তার অনুরোধ ফিরিয়ে দেওয়ায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অনুরোধ জানান এবং উপাচার্য তাকে কথা বলার অনুমতি দেন।

আরও পড়ুন
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ের মাধ্যমে আগামী ১০০ বছরের রাজনীতি বিনির্মাণ হবে 
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাকসুকে সহযোগিতা করছে না: সালাহউদ্দিন আম্মার 

সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, এখানে এমনও মানুষ বসে আছেন যারা জুলাইয়ে নীরব ছিলেন। এখানে এমনও মানুষ বসে আছেন যারা আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ন্যারেটিভ উৎপাদন করেছেন। এর মধ্যে পুন্ড্র ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আম্মারকে উদ্দেশ্য করে ‘অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে আম্মার’ বললে প্রতিউত্তরে আম্মার বলেন, অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য তো তখনই নষ্ট হয়েছে, যখন ফ্যাসিস্টদের সামনে বসিয়ে গণভোটের আলোচনা করা হচ্ছে। এখানে ১৬১ জন শিক্ষকের নাম আছে। এটা আমাকে বলতে দিতে হবে। না হলে জুলাই আহত ও শহীদ পরিবারের সবাইকে নিয়ে বের হয়ে যেতে হবে।

এরপর তিনি মতবিনিময় অনুষ্ঠান শেষে একই মঞ্চে একটি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই ১৬১ শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করেন। এছাড়া জুলাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে তাদের বিভিন্ন ভূমিকার অভিযোগ তোলেন।

মনির হোসেন মাহিন/কেএসআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।