পদত্যাগ আর তফসিল পরিবর্তনের বেড়াজালে ব্রাকসু, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বেরোবি
প্রকাশিত: ০৯:৫০ এএম, ১১ এপ্রিল ২০২৬

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচন এখন পদত্যাগ আর স্থগিতাদেশের বেড়াজালে বন্দী। দফায় দফায় তফসিল ঘোষণা আর প্রধান নির্বাচন কমিশনারদের রহস্যজনক পদত্যাগের ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতে হারিয়ে যেতে বসেছে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন এবং সর্বশেষ আমরণ অনশনের পর কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

‎বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ‘শিক্ষার্থী সংসদ’ অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর ৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৬তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে ছয় সদস্য বিশিষ্ট ব্রাকসুর প্রথম নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। তবে কমিশন গঠনের একদিন পরই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।

‎পরবর্তীতে ১১ নভেম্বর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১১৭তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজামানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে কমিশন পুনর্গঠন করা হয়। কমিশন পুনর্গঠন হলেও দীর্ঘ সময় ধরে তাদের কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

‎তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ১৮ নভেম্বর প্রথম দফায় ২৯ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের ঘোষণা দিয়ে ব্রাকসুর প্রথম তফসিল প্রকাশ করা হয়। তবে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ভোটগ্রহণের তারিখ এগিয়ে এনে ২৪ ডিসেম্বর নির্ধারণ করে দ্বিতীয় তফসিল ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যেই ২৫ নভেম্বর পুনর্গঠিত কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. শাহজামান প্রথমবার পদত্যাগপত্র জমা দিলেও প্রশাসনের অনুরোধে দায়িত্বে বহাল থাকেন।

‎এরপর ১ ডিসেম্বর ভোটার তালিকায় অসংগতি দেখিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব কার্যক্রম স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। ৩ ডিসেম্বর রাতে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নতুন রোডম্যাপ অনুযায়ী সংশোধিত তৃতীয় তফসিল ঘোষণা করা হয়।

‎তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম উত্তোলন, ডোপ টেস্টসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করলেও মনোনয়ন জমাদানের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই নির্বাচন কমিশন কার্যালয় বন্ধ পাওয়া যায়। এতে চরম ভোগান্তি ও হতাশায় পড়েন প্রার্থীরা।

‎পরদিন ১০ ডিসেম্বর রাতে আবারও তফসিল পরিবর্তন করে ভোটগ্রহণের তারিখ পিছিয়ে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি নির্ধারণ করে চতুর্থ তফসিল ঘোষণা করা হয়। এরপর ১১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. শাহজামান দ্বিতীয়বারের মতো পদত্যাগপত্র জমা দেন।

‎‎সর্বশেষ তফসিল অনুযায়ী, ১৩ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার ব্যতীত বাকি পাঁচ কমিশনারের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ও যোগাযোগের অভাবে আইনগত কারণে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ সম্ভব হয়নি। এরপর ভারপ্রাপ্ত প্রধান কমিশনার ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহনের নতুন পুনঃতফসিল ঘোষণা করে। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় ইসি সকল প্রকার নির্বাচন স্থগিত করলে ব্রাকসু নির্বাচনের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়৷

শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রশ্ন জাগছে আদৌও শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন আয়োজন করবে কিনা বর্তমান প্রশাসন।

‎এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের ভিপি প্রার্থী আহমাদুল হক আলবী বলেন, ব্রাকসু শিক্ষার্থীদের আবেগের জায়গা। কিন্তু প্রশাসন বারবার তালবাহানা করে শিক্ষার্থীদের হতাশ করছে। তিনবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও চারবার তফসিল পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রশাসন নিজেদের অদক্ষতারই প্রমাণ দিয়েছে।

‎অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেন পদত্যাগ করছেন সেটাই আমাদের প্রশ্ন। পদত্যাগ যেন এক ধরনের খেলায় পরিণত হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে চাই এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

আজিজুর রহমান/কেএইচকে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।