অন্ধকারেও মশা কীভাবে মানুষ খুঁজে বের করে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১০ এএম, ১১ এপ্রিল ২০২৬
ছবি: এআই

উষ্ণ অঞ্চল থেকে শুরু করে শীতল এলাকায় পৃথিবীর প্রায় সব জায়গাতেই মশার বিচরণ রয়েছে। তবে সব মশা একইভাবে জীবনযাপন করে না। পুরুষ মশা সাধারণত গাছের মধু, ফলের রস বা উদ্ভিদের নির্যাস খেয়ে বেঁচে থাকে। অন্যদিকে স্ত্রী মশা মানুষের বা প্রাণীর রক্ত পান করে, কারণ ডিম উৎপাদনের জন্য তাদের এই রক্তের প্রয়োজন হয়। তাইতো রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারে এই ছোট্ট প্রাণীটি নিখুঁতভাবে মানুষকে খুঁজে পায়। বিষয়টি মোটেও কাকতালীয় নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

সাম্প্রতিক সময় যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলেজি এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষকরা যৌথভাবে গবেষণায় উঠে এসেছে, মশা মানুষের অবস্থান নির্ধারণ করতে একাধিক সংবেদনশীল সংকেত ব্যবহার করে, যা অন্ধকারেও কার্যকর।

আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে মশা অন্ধকারে মানুষ খুঁজে পায়-

নিঃশ্বাসের কার্বন ডাই-অক্সাইডের ভূমিকা

মানুষ যখন শ্বাস নেয় ও ছাড়ে, তখন কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়। মশারা এই গ্যাসের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সামান্য পরিবর্তনও তারা অনুভব করতে পারে। এই গ্যাসই মশার কাছে মানুষের অবস্থান নির্ধারণের প্রথম সংকেত হিসেবে কাজ করে। দূর থেকে তারা বুঝতে পারে কোথায় কোনো প্রাণী রয়েছে এবং ধীরে ধীরে সেই দিকেই এগিয়ে যায়।

শরীরের তাপ শনাক্ত করার ক্ষমতার মাধ্যমে

মশার শরীরে বিশেষ ধরনের সেন্সর থাকে, যা মানুষের শরীরের তাপ শনাক্ত করতে সক্ষম। এই প্রক্রিয়াকে ইনফ্রারেড সেন্সিং বলা হয়। মানুষের শরীর থেকে নির্গত তাপ অন্ধকারেও মশার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আলো না থাকলেও এই উষ্ণতার উৎসের দিকে তারা ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। ফলে অন্ধকার ঘরেও তারা সহজেই মানুষকে খুঁজে পায়।

jago

শরীরের গন্ধ ও রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে

মানুষের ত্বক থেকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ বের হয়, যেমন ল্যাকটিক অ্যাসিড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। এসব উপাদান মশাকে আকৃষ্ট করে। প্রত্যেক মানুষের শরীরের গন্ধ আলাদা হওয়ায়, মশার আকর্ষণও ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হয়। এই গন্ধকে মশা এক ধরনের ‘রাসায়নিক সিগনেচার’ হিসেবে শনাক্ত করে, যা তাদের লক্ষ্য নির্ধারণে সাহায্য করে।

কেন কিছু মানুষকে বেশি কামড়ায়?

সব মানুষ মশার কাছে সমানভাবে আকর্ষণীয় নয়। কারো শরীরের গন্ধ, ঘামের পরিমাণ বা ত্বকের রাসায়নিক গঠন ভিন্ন হওয়ায় কেউ কেউ বেশি মশার কামড়ের শিকার হন। একই জায়গায় কয়েকজন থাকলেও মশা অনেক সময় নির্দিষ্ট একজনের দিকেই বেশি আকৃষ্ট হয়। এর কারণ হলো, সেই ব্যক্তির শরীর থেকে নির্গত সংকেত মশার কাছে বেশি শক্তিশালী মনে হয়।

মশারা কি দলবদ্ধভাবে শিকার খোঁজে?

অনেকের ধারণা, মশারা দলবদ্ধভাবে একে অন্যকে অনুসরণ করে মানুষের কাছে পৌঁছায়। কিন্তু গবেষণা বলছে, এই ধারণা সঠিক নয়। প্রতিটি মশা আলাদাভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইড, তাপ এবং গন্ধের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখায়। তারা একই জায়গায় জড়ো হয় কারণ সবাই একই উৎসের প্রতি আকৃষ্ট হয়, একে অন্যকে অনুসরণ করে নয়।

কেন রাতেই মশা বেশি সক্রিয়?

বেশিরভাগ মশারই একটি নির্দিষ্ট বায়োলজিক্যাল ক্লক থাকে, যা তাদের রাতে বেশি সক্রিয় করে তোলে। রাতের সময় পরিবেশ শান্ত থাকে এবং মানুষ সাধারণত ঘুমিয়ে থাকে। এতে মশার জন্য শিকার খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। কারণ তখন মানুষের প্রতিরোধ কম থাকে এবং তারা সহজেই রক্ত সংগ্রহ করতে পারে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, দ্য গার্ডিয়ান ও অন্যান্য

এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।