প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকায় সহকারী অধ্যাপক থেকে প্রভাষক
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘এফ’ ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় গণিত বিভাগের সাবেক সভাপতি সহকারী অধ্যাপক নূরুল ইসলামকে পদ অবনমন দিয়ে প্রভাষক করা হয়েছে। একই সাথে আগামী পাঁচ বছর তিনি কোনো ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতি পাবেন না।
এছাড়া পৃথক অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়টির দুইজন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৫ তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সদ্ধিান্ত নেয়া হয়।
এছাড়াও বাংলা বিভাগের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর নামে চেয়ার প্রতিষ্ঠার নীতিমালা পাস হয় এবং তিনটি আবাসিক হলের নাম বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলেও জানা যায়।
সভা সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ এবং নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে গঠিত তিনটি তদন্ত কমিটিই অপরাধের প্রমাণ পেয়েছে। এসবের জন্য তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই বিভাগের আরেক সাবেক সভাপতি রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে টাকা লেনদেনের পরিকল্পনার অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটিতে তার অপরাধও প্রমাণিত হওয়ায় তাকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট সভা।
এছাড়াও বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘এফ’ ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় গণিত বিভাগের সাবেক সভাপতি সহকারী অধ্যাপক নূরুল ইসলামকে পদ অবনমন দিয়ে প্রভাষক করা হয়েছে। একই সাথে আগামী পাঁচ বছর তিনি কোনো ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতিও পাবেন না এবং কোনো ধরনের পরীক্ষার সাথেও সংশ্লিষ্ট হতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসে সহযোগিতার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুইজন কর্মচারী সাইফুল ইসলাম এবং আলাউদ্দিন আলালের পাঁচ বছর ইনক্রিমেন্ট বন্ধ ও আগামী দুই বছর কোনো পদোন্নতী পাবেন না বলেও সিদ্ধান্ত হয়। একই অনুষদভুক্ত ‘ডি’ ইউনিটের প্রশ্নপত্রে অসঙ্গি থাকার অভিযোগে ওই ইউনিটের সমন্বয়কারী বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক শামসুলমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
আইন ও মুসীম বিধান বিভাগের অধ্যাপক কাজী ওমর ফারুক কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে বিদেশ সফর ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শাহিনুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডকেট।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের কর্মকর্তা ওয়ালিদুর রহমান মুকুটের বিরুদ্ধে হলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকেও কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
প্রকৌশল দপ্তরের উপ প্রকৌশলী তৈমুর রেজা তুহিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে উপ-রেজিস্ট্রার পদ মর্যাদা থেকে পদ অবনমন দিয়ে শাখা কর্মকর্তা বানানো হয়েছে। একই সাথে তিনি চাকরি জীবনে কোনো পদোন্নতি পাবেন না এবং আত্মসাৎকৃত টাকা এক বছরের মধ্যে তার বেতন থেকে কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মকবুল আহম্মদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন ও তাকে ওএসডি করলে তিনি নিজেই স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দেন। এ সিন্ডিকেট সভায় তার পদত্যাগ পত্র গ্রহণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া সমাবর্তন করার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে অনুমতি ও সময় চেয়ে আবেদন করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, ‘এতদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচার হীনতার যে সংস্কৃতি চালু ছিল সেখান থেকে বের হয়ে এসে অপরাধীদের শাস্তির সংস্কৃতি চালু হলো। কোন দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না। একই সাথে যাতে কেউ বিনা অপরাধে শাস্তি না পায় সেদিকেও খেয়াল রাখা হবে।’
ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ/এআরএস/এমএস