শাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো শিক্ষকদের অবস্থান ধর্মঘট
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্য ড. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়ার পদত্যাগের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো প্রশাসন ভবন তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন শিক্ষকদের একাংশ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় উপাচার্য ভবনসহ অপর প্রশাসন ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে সেখানেই অবস্থান করছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের নেতারা।
এদিকে উপাচার্যের পক্ষাবলম্বনকারী শিক্ষকরা গ্রন্থাগার ভবন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ফুডকোর্টের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। দুপুর ১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিলো। তবে তালা দেয়ার খবর পাওয়া পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক ভূঁইয়া এখনো অফিসে আসেন নি।
তবে শিক্ষকদের এই আন্দোলনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশ ও পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবেই চলছে। তবে এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে শিক্ষকদের একটি বড় অংশ উপাচার্যের পক্ষ নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান করে অভিযোগ করেছেন ‘আন্দোলনকারী শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে অস্থিরতা সৃষ্টির পায়তারা করছেন।
উপাচার্য অনুসারী শিক্ষক সমিতি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মুক্তবুদ্ধি-মুক্ত চর্চা শিক্ষক পরিষদের শিক্ষক নেতারা এবং ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছে। ফলে বৃষ্টিতেও ক্যাম্পাসে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবারই তারা উপাচার্যের পক্ষাবলম্বন করে আন্দোলকারী শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন। মঙ্গলবার বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছেন উপাচার্যের পক্ষে। অন্যদিকে উপাচার্য ভবনের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বসে আছেন উপাচার্যবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ। দুপুর ১২টায় দু`পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়েছে।
শাবির সহযোগী অধ্যাপক ও সিন্ডিকেট সদস্য ফারুক উদ্দিন বলেন, উপাচার্য পদত্যাগ বা অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষকরা জানিয়ে তিনি বলেন, কোন অবস্থায় তাকে অফিস করতে দেয়া হবে না।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. কবির আহমদ বলেন, কয়েকজন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়টাকে অযথা অশান্ত করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ তাদের ভোট দিয়ে শিক্ষক সমিতির নেতৃত্ব নির্বাচিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষার জন্য। তাই বিশ্ববিদ্যালয় রক্ষার স্বার্থে আমরা উপাচার্যকে সমর্থন করেছি।
ছামির মাহমুদ/এসএস/এমএস