ইবিতে চাকরি প্রত্যাশীদের আন্দোলন প্রত্যাহার
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে সাবেক ছাত্রলীগের নেতারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের আশ্বাস দিলে তারা এ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয় এবং প্রশাসন ভবন ও প্রধান ফটকের তালা খুলে দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হাকিম সরকার, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক শাহিনুর রহমানসহ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে আন্দোলনরত চাকরি প্রত্যাশীদের বৈঠক হয়। বৈঠকে চাকরিপ্রত্যাশীরা জামাত-বিএনপির কোনো প্রার্থীকে নিয়োগ না দেওয়া, অর্থনীতি, পরিসংখ্যান ও আইন বিভাগের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা এবং নিয়োগ বোর্ডকে কেন্দ্র করে ডাকা সিন্ডিকেট সভা স্থগিত করার দাবি জানান।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হাকিম সরকার বলেন, `বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক করার স্বার্থে চাকরি প্রত্যাশীদের দাবি অনুযায়ী তিন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের বোর্ড স্থগিত করা হয়েছে। নিয়োগের ব্যাপারে পরবর্তীতে তাঁদের বিবেচনা করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।`
বৈঠকে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও চাকরিপ্রত্যাশী আশিকুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের তিন দফা দাবি মেনে নেওয়ায় এবং আমাদের চাকরির বিষয়টি পরবর্তীতে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়ায় আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’
এদিকে, চাকরি প্রত্যাশীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করায় আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে এবং কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ শহর থেকে শিক্ষক,শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বহনকারী বাস আগের শিডিউল অনুযায়ী ক্যাম্পাসে আসবে বলে পরিবহন অফিস সূত্রে জানা গেছে।
এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আফজাল হোসেন, রেজিস্ট্রার ড. মোসলেম উদ্দীন প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে চাকরির দাবিতে গত সোমবার ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মীরা উপাচার্যের কার্যালয়সহ প্রশাসনিক ভবনের সব কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। একই দাবিতে তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটেরও ডাক দেন।
এআরএ/আরএস