মেয়েদের হলের দেয়ালে অশ্লীল পোস্টার, তোলপাড়

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৩:৪২ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০১৭

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ভর্তি হওয়া ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রতিটি হলে ফিস্ট উৎসবের আয়োজন করে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষদের করিডোরে, শিক্ষার্থীদের হলের প্রবেশমুখে দেয়াল লিখন, পোস্টার ও আলপনা আঁকে তারা।

সম্প্রতি শহীদ শামসুল হক হলের ফ্লোর ফিস্টকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে দেয়াল লিখন, পোস্টার ও আলপনা আঁকে শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী রাতের বেলায় নতুন বেগম রোকেয়া হলের গেইটে অশ্লীল দেয়াল লিখন ও আলপনা আঁকে।

এ নিয়ে ক্যাম্পাসে সবার মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই পক্ষে বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন। সৃষ্টি হয়েছে তোলপাড়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপে শিক্ষার্থীদের লিখা কিছু কমেন্ট তুলে ধরা হলো:

শিক্ষার্থী সামিহা আজাদ লিখেছেন, কোনো রুচিশীল মানুষের পক্ষে কাজ এমন হয় না। হলের গেইট হয়েছে ৬ মাসও হয়নি। প্রতিটা লেডিস হল, ফ্যাকাল্টির সব জায়গায় একই অবস্থা। কয়দিন পর ভর্তি পরীক্ষা, ভালোই তো বাইরের লোকজন এসে দেখে যাবে আমরা আসলেই কি কি পারি!

আরেক শিক্ষার্থী রায় চোধুরী অনিরুদ্ধ লিখেছেন, কেন করেছে? কারা করেছে? ছোটরা করেছে না বড়রা করেছে? তাদের রুচি কি? তাদের পারিবারিক শিক্ষা কি এসব নিয়ে বলতে চাই না। ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির দেয়ালে যখন ফিস্টের নামে লেখা থাকে, ‘মেয়েরা এসো চলে, দরজা আছে খোলা’। তখন নিজের প্রতি লজ্জা হয়, কারণ আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী।

আশেয়া আক্তার লিখেছেন, আয়োডিন যুক্ত লবণের অভাব ছিল মনে হয়। এসব মস্তিস্কবিকৃত পোলাপানের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অযথাই টাকা খরচ করে তাদের ডিগ্রি দিচ্ছে, আগে এদের আদব-কায়দা শেখানো উচিত। প্রশাসন চাইলেই কারা এই কাজ করছে বের করতে পারবে, কিন্তু তাদের এত সময় কোথায়।

নাজমুল হক শাহিন লিখেছেন, প্রথম শ্রেণির মানুষ যেসব ছাত্ররা হবে তাদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ লজ্জাজনক। তাদের বিশ্ববিদ্যালয় শব্দের মর্ম জানা নেই। তাদেরকে হুঁশিয়ারি বার্তা নিজেরা নিজের মুখে কালি মাখছেন। নিজেদের অবস্থান নিজেরা ধরে রাখুন। আপনারা নিজেরা নিজেদের সামাজিক অবস্থান নষ্ট করছেন। সময় আছে বিবেকবান হন।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘দেয়াললিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১২’ পাস করা হয়। আইন থাকলেও কার্যকারিতা নেই এসব নিয়ন্ত্রণে।

ফলে দেয়াল লিখন ও পোস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বিনষ্টে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১২-এর প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকেও দেয়াল লিখন ও পোস্টার সাঁটানোর প্রতিযোগিতায় দেখা যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান এমনকি বাদ যায়নি বিদ্যুতের খুঁটি, ল্যাম্পপোস্ট, রাস্তার পার্শ্ববর্তী গাছগুলোও। গাছের ওপর পেরেক ঠুকে সেঁটে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন সাইনবোর্ড। যদিও এটাকে ‘দণ্ডনীয় অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইনটির ৩ ও ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত স্থান ছাড়া দেয়ালে লিখলে কিংবা পোস্টার লাগালে সেটি দণ্ডনীয় অপরাধ। কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে ওই ধারা অনুযায়ী নূন্যতম পাঁচ হাজার টাকা এবং অনূর্ধ্ব ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করবে, অনাদায়ে অনধিক ১৫ দিন পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া যাবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজ খরচে দেয়াল লিখন বা ক্ষেত্রমতে পোস্টার মুছে ফেলা কিংবা অপসারণের আদেশ দেয়া যাবে। তবে এসব কথা শুধুমাত্র কাগজেই সীমাবদ্ধ।

এ বিষয়ে কৃষি অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. হুমায়ূন কবির বলেন, গতকাল রাতে (মঙ্গলবার) ছেলেদের চেঁচামেচিতে আমার ঘুম হয়নি। এদের শিক্ষক হওয়াটাও লজ্জার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হোক। এদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়া উচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান খোকন বলেন, যারা এই ধরনের কাজ করেছে তাদেরকে অবহিত করেছি। তাদের দ্বারা আমরা লেখনিগুলো মুছে ফেলানোর ব্যবস্থা করবো। পরবর্তীতে কেউ এই ধরনের কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শাহীন সরদার/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।