গণবিতে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে আন্দোলনের ডাক শিক্ষার্থীদের

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক গণবিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ১২:০৩ পিএম, ০৫ এপ্রিল ২০১৯

‘ইউজিসি কর্তৃক বৈধ ভিসি চাই’ একদফা দাবিকে সামনে রেখে সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ‘গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ ছাত্র পরিষদ’।

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে গণবিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে এ আন্দোলনের ডাক দেন সংগঠনটির আহ্বায়ক রনি আহমেদ।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে উপাচার্যের বিষয়ে যথাযথ সমাধানে জন্য বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩ টায় ধানমন্ডিতে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র নগর হাসপাতালে এক জরুরি সভায় বসে বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ড। ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে যে সমাধান দেয়া হয়, তা যথাযথ মনে করেননি সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

‘উপাচার্যের বিষয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের গৃহীত সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে যায় না’ এমন দাবিতে আগামী শনিবার (৬ এপ্রিল) থেকে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে পরিষদটি।

সাধারণ ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক রনি আহমেদ বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্ট্রি বোর্ড সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু দিন শেষে আমরা দেখলাম তাদের কাছে আমাদের ন্যায্য দাবির কোনো মূল্য নেই। এখন আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প পথ নেই আমাদের। আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমাদের দাবি আদায় করব।’

সাধারণ ছাত্র পরিষদের নেতৃত্ববৃন্দ দাবি করেন, ‘শিক্ষাজীবন শেষ করে একটি বৈধ সনদপত্র প্রতিটি শিক্ষার্থীর ন্যায্য পাওনা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের বৈধ সনদপত্র প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। আমরা আমাদের সনদপত্রের বৈধতা চাই, আমরা ক্যাম্পাসে ইউজিসি অনুমোদিত উপাচার্য চাই।’

উপাচার্য নিয়ে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য এর আগে কয়েকটি ধাপে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় তারা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শর্ত অনুযায়ী উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

উপাচার্য নিয়ে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ট্রাস্টি বোর্ড কী সিদ্ধান্ত নিল তা জানতে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সাড়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সাধারণ শিক্ষার্থীদের এক মানববন্ধনে উপাচার্যের বিষয়ে কার্যকরী সিদ্ধান্তে আসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) ট্রাস্টি বোর্ডের সভা পর্যন্ত সময় নেন বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেন। সে পর্যন্ত তিনি শিক্ষার্থীদের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ক্লাসে ফেরার অনুরোধ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করে ক্লাসে ফিরেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

অপরদিকে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে অধ্যাপক লায়লা পারভীন বানুকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ২০১০ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী নিয়োগে সহায়তাদানের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ কথা বলা হয়। ৩ এপ্রিল এটি প্রকাশিত হয়। ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর উপাচার্য পদে লায়লা পারভীন বানুর বৈধতা সংক্রান্ত রিট মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন আদালত।

গণবিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ডা. লায়লা বানু চলতি দায়িত্ব গ্রহণের পরে ২০১৭ সালের ৯ আগস্ট ইউজিসি এক চিঠিতে তাকে ওই পদে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। গণবিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইউজিসির ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করে। পরে ডা. লায়লা বানু রিটে পক্ষভুক্ত হন।

জেডএ/এমকেএইচ

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]

আপনার মতামত লিখুন :