বন্ধ হলে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি ইবি শিক্ষার্থীদের

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৮:৩৯ এএম, ২৭ মে ২০১৯

ঈদ-উল-ফিতর এবং গ্রীষ্মকাল উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছুটি শুরু হচ্ছে আজ সোমবার থেকে। সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে সকল আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো দীর্ঘ ১৭ দিন বন্ধ থাকবে বলে প্রভোস্ট কাউন্সিল সূত্রে জানা গেছে।

তবে ছুটিতে হল বন্ধ থাকায় হলে থাকা শিক্ষার্থীদের মূল্যবান জিনিসপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তারা। ছুটিতে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদরে অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সময় প্রতিবার বাড়তি নিরাপত্তার ঘোষণা দিলেও বিভিন্ন হলের জানালার গ্রিল কেটে, তালা ভেঙে শিক্ষার্থীদের কক্ষ থেকে মূল্যবান জিনিসপত্রসহ ব্যবহার্য জিনিস পত্র খোয়া যাচ্ছে।

একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। সোমবার থেকে আবাসিক হল বন্ধ করবে প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের সকাল ১০টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ছুটি শেষে ১৩ জুন সকাল ১০টায় হলগুলো খুলে দেয়া হবে। তবে ১৫ জুন প্রশাসনিক এবং ১৬ জুন থেকে যথানিয়মে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম চালু হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, গত শীতের ছুটি চলাকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ১০৯নং কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ডেস্কটপ, ফ্যান এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিস চুরি হয়ে যায়। এর আগেও ওই হলের বারান্দার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করার সময় পার্শ্ববর্তী গ্রামের তিন চোরকে আটক করে আনসার সদস্যরা।

এদিকে ছাত্রীদের আবাসিক হলেও বেশকিছু চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই ঈদের ছুটিতে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের অন্তত ১২টি কক্ষে ছাত্রীদের মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির অভিযোগ করেন আবাসিক ছাত্রীরা। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটিও গঠিত হয় বলে জানা যায়।

এ সকল অনাকাঙ্ক্ষিত চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীরা হলে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্বে অবহেলা এবং প্রশাসনের তদারকিতে অবহেলার অভিযোগ করেছেন।

তবে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা জানান, হলগুলো অনেক বড় এবং প্রয়োজনের তুলনায় ডিউটিতে নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা কম হওয়ায় একজনের পক্ষে সম্পূর্ণ হলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাছাড়া ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় ফাঁকা ক্যাম্পাসে রাতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।

নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি প্রফেসর ড. আকরাম হোসন মজুমদার বলেন, হল বন্ধ থাকায় হলের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে আমরা হলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদারের ব্যবস্থা করব।

ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ/এফএ/জেআইএম

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]

আপনার মতামত লিখুন :