ইবি ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৯:১১ এএম, ০৪ নভেম্বর ২০১৯

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান লালনের বাড়িতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারী তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হুমকি দিয়ে ফেরার পথে ওই কর্মচারীসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে লালনের পরিবার।

গত শনিবার রাতে মেহেরপুরের গাংনী থানায় লালনের ভগ্নিপতি শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইসিটি দফরের কর্মচারী ইলিয়াস জোয়ার্দ্দারকে প্রধান আসামি করে দণ্ডবিধি ১৪৩, ৪৪৮ এবং ৫০৬ ধারায় এ মামলা করেন।

মামলায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ এবং সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবকেও আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী এলাকার উজ্জল এবং মাইক্রোবাসের চালকসহ মোট সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ৩/৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন এবং প্রক্টর পরিবর্তন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কারণে লালনের সঙ্গে সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের শক্রতা চলছে। সেই শত্রুতার জের ধরে ড. মাহবুবর রহমান লালনকে হুমকি দেয়াসহ তার ক্ষতি সাধনে লিপ্ত। তাই এজহারে উল্লেখিত আসামিরা গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মেহেরপুরের গাংনী থানাধীন মটমুরা বাজার সংলগ্ন এলাকায় লাললের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সামনে তাকে হত্যার হুমকি দেয়।

এজহারে অভিযুক্ত অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এটিতো সম্পূর্ণ অবান্তর একটি অভিযোগ। আসামিদের সঙ্গে গত কয়েকদিন আমার কোনো যোগাযোগই নেই।

মামলার ৪ নং আসামি এবং ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন,আমি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় আছি। এমনকি আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে গত এক মাসেও আমার কোনো কথাও হয়নি। এই মামলায় আমাকে ষড়যন্ত্র করে আসামি করা হয়েছে। যেটি আমার রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত মান ক্ষুণ্ন করেছে। এই ঘটনায় আমার বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করতে পারলে আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করব।

ঢাকায় অবস্থান করার পরেও ইবি ছাত্রলীগ সভাপতিকে মামলার আসামি করার বিষয়ে বাদী শহিদুল ইসলাম বলেন, তারা হুমকি দিয়ে এলাকা ত্যাগের সময় এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া করে। কিন্তু এলাকাবাসী তাদের আটক করতে না পারলেও কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার আমলা বাজার পুলিশ ফাঁড়ি তাদের আটক করে। এর কিছু সময়ের মধ্যেই এলাকবাসী সেখানে পৌঁছায়। তখন আটকদের পুলিশের পাশাপাশি এলাকাবাসীও বিভিন্ন প্রশ্ন করে। এর একপর্যায়ে তাদের কারা পাঠিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে ইবি ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নাম বলে তারা। তাই তাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে।

গাংনী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার চার আসামিকে গতকাল রোববার বিকেলে মেহেরপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেয়া হলে বিচারক চারজনকেই জামিন দিয়েছেন।

ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ/আরএআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]