কোষাধ্যক্ষ ছাড়াই চলছে ঢাবি

আল সাদী ভূঁইয়া
আল সাদী ভূঁইয়া আল সাদী ভূঁইয়া , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৫৫ এএম, ১১ আগস্ট ২০২০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১১ জুলাই। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার ১ মাস পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি শূন্য রয়েছে। কবে পূরণ হবে সে বিষয়েও কিছুই বলতে পারছে না প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা), প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন), কোষাধ্যক্ষ এই চারটি প্রধান পদে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি নিয়োগ পান।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট অথবা গণিত বিভাগের শিক্ষকরা হয়ে থাকেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন- এসব জায়গা থেকে ‘পছন্দমতো’ ব্যক্তি না থাকায় এই পদ দিতে দেরি হচ্ছে।

সূত্র জানায়, এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ পদ পেতে যেসব শিক্ষকরা আগ্রহী ও দৌড়ঝাঁপ করছেন তাদের প্রায় সকলেই কোনো না কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত। এদের কেউ গবেষণা জালিয়াতি, নিম্নমানের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি, বিভিন্ন অভিযোগে পূর্বে বিতর্কিত ও বিরোধী দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গত মাসে কোষাধ্যক্ষ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেট প্রো-উপাচার্য প্রশাসনকে উপস্থাপন করতে হয়েছে। বর্তমানে কোষাধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে রুটিন ওয়ার্কও প্রো-উপাচার্য প্রশাসনের পালন করতে হচ্ছে। এছাড়া একমাস ধরে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ না হওয়ায় নিয়োগপ্রার্থী শিক্ষকরা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের প্রভাবশালী শিক্ষকরা তাদের সিন্ডিকেটের কাউকে কোষাধ্যক্ষ পদে বসানোর বেশ লড়াই করছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র।

কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে জানতে চাইলে বর্তমানে কোষাধ্যক্ষের রুটিন দায়িত্ব পালন করা প্রো-উপাচার্য প্রশাসন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন। তিনি যাকে ইচ্ছা নিয়োগ দিতে পারেন। আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। এখানে কে নিয়োগ পাবে সে বিষয়ে আমার কোনো এখতিয়ার নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক উপাচার্য এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবে’।

প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘চ্যান্সেলর কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেবেন। বর্তমানে করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় কোষাধ্যক্ষের তেমন কোনো কাজ নেই। হয়তো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একসাথে নিয়োগের সময় এটিতেও নিয়োগ চলে আসতে পারে। আর কে হতে পারে সেটা নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে’।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, কোষাধ্যক্ষ নিয়োগে আমার কোনো হাত নেই। এটা রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন। তিনি যখন নিয়োগ দেবেন তখন আপনারা জানতে পারবেন। এটা নিয়ে অগ্রিম কিছু বলতে পারছি না। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি’।

এমআরএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]