কোথাও নেই পরীক্ষার উত্তরপত্র, তদন্তে কমিটি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৮:৪৮ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণিত বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ সেমিস্টার পরীক্ষার উত্তরপত্র খুঁজে পাচ্ছে না প্রশাসন। এ নিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও ওই বিভাগের শিক্ষক একে অন্যকে দুষছেন।

এতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা নেয়ার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও উত্তরপত্র না পাওয়ায় ফলাফল আটকে আছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামানকে আহ্বায়ক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরীকে সদস্য সচিব, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী ও গণিত বিভাগের প্রধান খলিফা মোহাম্মদ হেলালকে সদস্য করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ সেমিস্টার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার পর কোর্সের শিক্ষক ও গণিত বিভাগের প্রভাষক মো. আতিকুর রহমান উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে ফলাফল জমা দেন। কিন্তু উত্তরপত্র বহিঃপরীক্ষকের কাছে প্রেরণের জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে জমা দিতে হয়। একই ব্যাচের অন্যান্য কোর্সের উত্তরপত্র পাওয়া গেলেও এ কোর্সের উত্তরপত্র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে জমার কোনো রের্কড নেই। উত্তরপত্র না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যাচের ফলাফল প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এতে ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা উত্তরপত্র, নম্বরপত্র সবকিছু রেজিস্ট্রার অনুসরণ করে জমা নিই। সংশ্লিষ্ট কোর্সের ক্ষেত্রে এ শিক্ষক আমাদের বলেছেন উনি উত্তরপত্র একজন অফিস সহায়কের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন। কিন্তু এ কোর্সের উত্তরপত্র আমাদের কার্যালয়ে জমা হওয়ার কোনো রেকর্ড আমরা পাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী উত্তরপত্র, নম্বরপত্র সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে স্বশরীরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে জমা করতে হয়।’

এদিকে সংশ্লিষ্ট কোর্সের শিক্ষক মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমি পরীক্ষার উত্তরপত্র ও নম্বর একত্রে বিভাগের অফিস সহায়কের মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। আমার কাছে নম্বরপত্র জমা দেয়ার রিসিভ কপি রয়েছে।’

এ বিষয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট কোর্সের বহিঃপরীক্ষকের নম্বর পাইনি, তবে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষকের নম্বর পেয়েছি। উত্তরপত্রের বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় বলতে পারবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের প্রধান খলিফা মোহাম্মদ হেলাল বলেন, ‘একাডেমিক কাউন্সিলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে একটি কমিটি করা হয়েছে, কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে সংশ্লিষ্ট কোর্সের পরীক্ষা ও শিক্ষকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

আরএইচ/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।