অপরিচ্ছন্ন ভবন-আবর্জনার স্তূপ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কুবি শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ১২:০৩ পিএম, ২৫ জুন ২০২১

ক্যাম্পাসে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ও বিভিন্ন ভবনের শৌচাগার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে পরীক্ষা শুরু করলেও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে প্রশাসনের গাফিলতি রয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিন দেখা যায়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ জমে রয়েছে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার অবস্থাও ভালো না হওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এছাড়া অ্যাকাডেমিক ভবনগুলোর শৌচাগার ও বেসিনও অপরিষ্কার হয়ে আছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত শৌচাগার পরিষ্কার না করায় ও নষ্ট কলগুলো সময়মত মেরামত না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের প্রতি তলার দুই ব্লকে আটটি শৌচাগার ও ছয়টি বেসিন থাকলেও অধিকাংশ বেসিনই ব্যবহারের অনুপযুক্ত। বেশিরভাগ সময় শৌচাগারগুলো বন্ধ থাকলেও যেগুলো উন্মুক্ত থাকে তা পরিষ্কার করার জন্য নেই কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।

এছাড়া প্রশাসনিক ভবনের পঞ্চম তলায় লাইব্রেরি থাকলেও নেই কোনো পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। এতে লাইব্রেরিতে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় বিব্রতকর অবস্থায়।

এ বিষয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহন চক্রবর্তী বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে আসার পর সবকিছু ঠিক থাকলেও বাথরুম, বেসিন ও পানির কল নিয়ে পড়তে হচ্ছে বিব্রতকর অবস্থায়। এ নোংরা পরিবেশের মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে আমাদের। পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতাই এ অবস্থার জন্য দায়ী।’

comilla1

জনবল সঙ্কট ও ডিন অফিসের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্টেট অফিসের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘পুরো ক্যাম্পাস নজরদারিতে রাখা সম্ভব নয় আমাদের পক্ষে। অ্যাকাডেমিক ভবনগুলোর কাজ পরিচালনার জন্য আমাদের জনবল সেখানে থাকলেও তাদের পরিচালনার দায়িত্ব ডিন অফিসের।’

পরীক্ষা নেয়ার আগে অ্যাস্টেট শাখা পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালিয়েছে বলে জানান সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম আকন্দ। তবে এ পরিস্থিতি জানানো হলে তিনি বলেন, ‘তাহলে পরীক্ষার আগে তারা করেছে কী? ক্যাম্পাসে তো তাদের ১০ জন মিলে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালিয়েছে। আমি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

বিশ্ববিদ্যালয় সিনিয়র মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহমুদুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অবশ্যই দরকার। কারণ ময়লা জমে থাকলে সেখানে মশা ও মাছি বেড়ে যায়। এতে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস ছড়াতে পারে। যাদের শ্বাসকষ্ট আছে তাদের জন্য এ অপরিষ্কার পরিবেশ খুবই বিপদজনক। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে কর্মীদের খেয়াল রাখা উচিত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘তারা এ কাজগুলো করে রাখে না কেন? আমি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

এসএমএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]