স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে, দাবি কুয়েট শিক্ষকের স্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০৪:৪৮ এএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১
প্রফেসর ডক্টর মো. সেলিম হোসেন ও তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন রিক্তা

‘আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমার মেয়েকে এতিম করা হয়েছে। আমাকে স্বামী হারা করা হয়েছে। কুয়েট কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে মামলা না করলে আমি নিজে বাদী হয়ে মামলা করবো। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। যারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িত তাদের ফাঁসি চাই।’

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ডক্টর মো. সেলিম হোসেনের (৩৮) স্ত্রী সাবিনা খাতুন রিক্তা এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করে কথাগুলো বলছিলেন।

এদিকে প্রফেসর ড. সেলিমের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে কুয়েট শিক্ষক সমিতি।

সাবিনা বলেন, গত ৩০ নভেম্বর হাসিমুখেই ক্যাম্পাসে যান ড. সেলিম। বিধ্বস্ত হয়ে বাসায় ফিরে এসে জানান, ছাত্ররা তাকে ধরে নিয়ে যায়। তখন তার চোখ-মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছিলো তার অবস্থা খুব খারাপ। সেই অবস্থায় এরপর তিনি গোসল করতে বাথরুমে ঢোকেন। কিন্তু অনেক সময় পরও বের হচ্ছিলেন না। এরপর চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। বাথরুমের দরজা ভেঙে তাকে বসা অবস্থায় দেখি। কিন্তু চোখ বন্ধ। মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। মুখে পানি ছিটা দিলে চোখ খোলে। কিন্তু কথা বলতে পারেনি। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ছয় বছরের প্রেম ছিল আমাদের। তারপর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। এরপর কেটে গেছে আরও ১০ বছর। সংসারের কোনো কাজই তাকে বলা লাগতো না। বাসায় রাতের মশারিও নিজে টানাতো। বাসায় থাকাকালে আমাকে কোনো কাজ করতে দিতো না। চাকরিতে চলে গেলেও বাসার খোঁজখবর রাখতো সবসময়। সেই মানুষটার এমন মৃত্যু আমি সইতে পারছি না। আট বছর আগে পিএইচডি করতে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আমাকে সঙ্গে নিয়েই যায়। সেখানে চার বছর থাকার পর দেশে ফিরে এসে কুয়েটে যোগ দেয়। করোনার মধ্যে প্রফেসর হিসেবে পদোন্নতি পায়। একইসঙ্গে হলের প্রভোস্ট হয়।

কুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রতীক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সেলিমের মৃত্যুর পর সাধারণ সভা করে আমরা এ ঘটনায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে জন্য কুয়েট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছি। পাশাপাশি শিক্ষক সেলিমের নিয়মিত পাওনার বাইরে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অতিরিক্ত এক কোটি টাকা পরিবারকে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

শিক্ষক ও ছাত্রদের অভিযোগে জানা গেছে, ৩০ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বাধীন ছাত্ররা ক্যাম্পাসের রাস্তা থেকে ড. সেলিম হোসেনকে জেরা করা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তারা শিক্ষককে অনুসরণ করে তার ব্যক্তিগত কক্ষে (তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) প্রবেশ করেন। সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা আনুমানিক আধা ঘণ্টা ওই শিক্ষকের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষক ড. সেলিম হোসেন দুপুরে খাবারের উদ্দেশে ক্যাম্পাস সংলগ্ন বাসায় যান। দুপুর ২টার দিকে তার স্ত্রী লক্ষ্য করেন তিনি বাথরুম থেকে বের হচ্ছেন না। পরে তিনি দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আলমগীর হান্নান/এমআরআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]