হলের দূষিত পানি ফেলার একমাত্র জায়গা গবেষণা পুকুর

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ১১:২১ এএম, ০২ জানুয়ারি ২০২২

জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স (এফএমবি) বিভাগের একমাত্র গবেষণা পুকুর (ব্রুড পনড, মা মাছের প্রজননের জন্য ব্যবহারিত পুকুর বা জলাধার)। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি আবাসিক হলের ময়লা পানিসহ খাবারের উচ্ছিষ্ট ও মসজিদের ব্যবহারিত পানি সরাসরি ফেলা হচ্ছে পুকুরটিতে। এতে করে নষ্ট হচ্ছে পুকুরের পানির গুণগত মান, ব্যাহত হচ্ছে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন।

মূলত পুকুরটির অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি আবাসিক হল ও কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন হওয়ায় এবং ভবনগুলোর পানি নিষ্কাশনের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সরাসরি পুকুরে ফেলা হচ্ছে আবাসিক হলের দূষিত পানি ও ময়লা আবর্জনা। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুকুরে জন্মাচ্ছে শ্যাওলা যা মাছের প্রাকৃতিক খাবার তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করছে।

পুকুরটি খনন, সংস্কার ও পাড় বেঁধে ছোট ছোট ব্রুড পনড করার কথা থাকলেও করোনাকালীন সময়ে সেটা করা সম্ভব হয়নি। পুকুরের অবস্থা খারাপ হওয়ায় ইতোমধ্যে পুকুরটি থেকে বেশকিছু পরিমাণ মা মাছ অন্য গবেষণা পুকুরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, পুকুরটিকে এখন আর গবেষণা কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না। মূলত আমরা এটিকে মা মাছের মজুত পুকুর হিসেবে ব্যবহার করছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকার কারণে হলের পানি ও ময়লা আবর্জনাগুলো পুকুরে ফেলা হচ্ছে। এতে করে পানির
গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। ফলে মাছ চাষ ও গবেষণার জন্য প্রকৃত অর্থে এই পুকুরটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা পুকুরটি খনন ও উঁচু করে পাড় বেঁধে একাধিক ছোট ছোট গবেষণা পুকুর করার পরিকল্পনা করেছিলাম। তবে করোনাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে সেটা করা
সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি দ্রুত এটির সংস্কার কাজ শুরু করে আগামী মৌসুম থেকে গবেষণার জন্য পুকুরটি ব্যবহার করার। আমরা ইতোমধ্যে বেশকিছু পরিমাণ মা মাছকে নতুন গবেষণা পুকুরে স্থানান্তর করেছি। মা মাছের প্রজননের জন্য বড় ও আলাদা ধরনের জলাধার প্রয়োজন হয়। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গার সংকট ও আমাদের লোকবলের অভাবে আমরা পরিপূর্ণভাবে কাজগুলো চালিয়ে যেতে পারছি না। উপাচার্যকে জানিয়েছি এবং তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা বর্ধিত করা হলে আমাদের জন্য আলাদা গবেষণা পুকুরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।