ইবিতে পর্যাপ্ত বাজেট নেই গবেষণায়

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৯:০৩ পিএম, ৩০ জুন ২০২২
ফাইল ছবি

নতুন অর্থবছরে ১৫৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। যা গত বছরের তুলনায় এক কোটি ৪৪ লাখ টাকা বেশি। তবে সন্তোষজনক বরাদ্দ নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা, গবেষণা, পরিবহন, আবাসিক হলসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতসমূহে। মোট বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশই খরচ হবে শিক্ষক, কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা-পেনশনে।

জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দাবিকৃত ২০০ কোটি ১৪ লাখ টাকার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৫৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় দেখানো হয়েছে ৯ কোটি টাকা। প্রতিবারের মতো এবারো সবথেকে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতায়। এ খাতে মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১০৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা যা মোট বাজেটের ৬৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। এছাড়া পেনশন খাতে মোট বাজেটের ১০.৬৩ শতাংশ। শুধুমাত্র শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-পেনশনেই খরচ হবে বাজেটের ৮০ শতাংশ। তবে শিক্ষার্থী সম্পর্কিত খাতসমূহে সর্বদা কম বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

এদিকে গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে বরাদ্দ প্রায় শূন্যের কোঠায়। যেখানে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৮৭ ও শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ। গবেষণায় দেওয়া বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই অপ্রতুল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরির পরিচালক অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল হক জানান, ‘গবেষণায় প্রয়োজনীয় কেমিকেল খুবই ব্যয়বহুল। তাই গবেষণার জন্য বছরে যে অর্থ দেওয়া হয় তা দিয়ে এক মাসও গবেষণা চালানো যায় না। ফলে অনেকেই গবেষণায় আগ্রহ দেখান না।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি খাত হলো চিকিৎসা। এ বছর এ খাতের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দুই কোটি ১৩ লাখ টাকা। যা বাজেটের এক দশমিক ৩৩ শতাংশ। তবে এখানে ৯০ ভাগই ব্যবহার করা হবে চিকিৎসা ভাতায়। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম টাকা থাকছে মেডিকেলের ওষুধ ক্রয়ে। যার কারণে শিক্ষার্থীদের বাজারের সবচেয়ে কমদামী ওষুধসমূহ সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সাদিয়া মাহমুদ নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, মেডিকেলে যে কোনো ওষুধের জন্য গেলে এক-দুই টাকার টেবলেট দেওয়া হয়। যা আসলে রোগের জন্য অপ্রতিরোধ্য। তাই অসুস্থ হলে মেডিকেলে যাওয়ার আগ্রহ থাকে না।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি খাতে দেওয়া হয়েছে ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ। যা মোট বাজেটের মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ। যা মাত্র ৪০ লাখ টাকা। হলে বরাদ্দ কম দেওয়ায় সর্বদা নিম্নমানের খাবার খেতে হয় শিক্ষার্থীদের।

এনিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই তাদের। শেখ রাসেল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান বলেন, প্রশাসনের উচিত ছাত্রদের কথা সবার আগে চিন্তা করা। হলে খাবারের মানের তুলনায় টাকা বেশি নেয়। হলে যদি ভর্তুকি বাড়ানো হয়, তাহলে একটু স্বস্তি পেতাম। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন খাতেও দেওয়া হয়নি পর্যাপ্ত বাজেট।

বাজেট নিয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বরাদ্দ পূর্বের তুলনায় বেড়েছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী সামনে আরও বাড়ানোর চেষ্টা থাকবে।

রুমি নোমান/আরএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]