১০ বছর ধরে অকেজো কুবির অর্ধকোটি টাকার সোলার প্যানেল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৫:০৮ পিএম, ৩০ আগস্ট ২০২২

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রশাসনিক ভবনের জন্য ছাদে বসানো হয়েছিল ১৮টি সোলার (সৌর বিদ্যুৎ) প্যানেল। তবে এক বছরের মাথায় তা অকেজো হয়ে পড়ে। প্রায় ১০ বছরেও তা ঠিক করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে এই সোলার প্যানেল স্থাপনে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৫ ডিসেম্বর ৪৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ৮.৪ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল বিশ্ববিদ্যালয়কে বুঝিয়ে দেয় বাংলাদেশ অলটারনেটিভ এনার্জি সিস্টেমস লিমিটেড। শুরুতে ৫ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল লাগানোর কথা থাকলেও ৮.৪ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল লাগানো হয়। তবে এই পরিবর্তন সম্পর্কিত কোনো নথি পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক (পরবর্তী সময়ে রেজিস্ট্রার) ড. মো. আবু তাহেরসহ চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেল এ বিষয়ে ছয়টি মতামত দেয়। দেশের আবহাওয়া বিবেচনায় প্রতিটি প্যানেলে ৩৬টি অথবা ৭২টি করে সেল থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তারা। ৬০টি করে সেল থাকার কারণে গ্রীষ্মকালে উচ্চ তাপমাত্রায় ব্যাটারির চার্জিংয়ে সমস্যা হতে পারে বলে তারা মত দেন। এছাড়া তিনটি চার্জ কন্ট্রোলারের মধ্যে দুটি (ডান পাশের) এমভিপি মুডে যায় কিন্তু বাম পাশের চার্জ কন্ট্রোলার স্টার্ট আপ মুডে থাকলে এমভিপি মুডে না যাওয়ার ব্যাপারটি উল্লেখ করেন। এসব কিছু ঠিক করে ওই প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধের পরামর্শ দেয় বিশেষজ্ঞ প্যানেল।

jagonews24

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রথমে ৫ কিলোওয়াটের কথা থাকলেও হুট করে ৮.৪ কিলোওয়াটের সোলার লাগানো হয়েছে। যা শুধু প্রশাসনিক ভবন না বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনগুলোও কভার করতো। কিন্তু তৎকালীন প্রভাবশালী শিক্ষক নেতা অধ্যাপক তাহেরের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাহের সাহেব একাই ৫৭টি কমিটিতে ছিলেন সে সময়। তিনিই কমিটিতে প্রভাব বিস্তার করে এখানে দুর্নীতি করেছেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকৌশল দপ্তরের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্যানেলগুলো যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে তা ইনভার্টারে জমা হবে। কিন্তু পানেলগুলো যে পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতো সে পরিমাণ বিদ্যুৎ ইনভার্টার ধারণ করতে পারতো না। ফলে একসময় এসে ইনভার্টার পুড়ে গেছে। এখন ইনভার্টার সংস্কার করার কোনো উপায় নেই। নতুন করে কিনতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শহিদুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আমির হোসেন খানের সময়ের ঘটনা। এটা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর ড. আলী আশরাফ স্যার যখন ভিসি তখন আমরা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলাম। তবে ফলপ্রসূ হয়নি।’

Solar-(3)

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অলটারনেটিভ এনার্জি সিস্টেমস লিমিটেডের ম্যানেজার আশরাফ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরাই কুবিতে সোলার লাগিয়েছিলাম। লাগানোর এক বছর পর্যন্ত সময়ে যদি নষ্ট হতো তাহলে আমরা দায়িত্ব নিতাম। কিন্তু এক বছরের পরবর্তী সময়েতো আমাদের দায়িত্ব থাকে না। তবুও আমরা দু-একবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গিয়েছিলাম এবং সমস্যা সমাধান করেছিলাম।’

সার্ভিস চার্জের টাকা কেন নেননি, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ওইদিকে আমাদের যাওয়া হয়নি। তাই এসব টাকা আর নেওয়া হয়নি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট কথাবার্তা। এগুলো চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই না। সোলার নষ্ট হওয়ার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

সোলার লাগানো কোম্পানি জামানতের জন্য আবেদন করলে আপনার সুপারিশে তারা টাকা পান। এর কিছুদিন পরই সোলার প্যানেল নষ্ট হয়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার সই থাকতেই পারে। এতে কী হয়েছে?’ পরে তিনি আর এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, ‘আমি এরকম একটি অভিযোগের কথা আগেও শুনেছি। বিষয়টির খোঁজ নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।