জাবিতে বিভাগীয় সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন


প্রকাশিত: ১০:৪৮ এএম, ৩১ মার্চ ২০১৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মইনুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করেছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে একই দাবিতে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন বিভাগীয় শিক্ষকরাও।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা পৌনে একটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে এই ঘোষণা দেয়া হয়। 

জানা গেছে, গত বছরের ৪ এপ্রিল নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষকরা বিভাগের তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মইনুদ্দিন বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কাছে চিঠি দেন। পরে বিভাগের শিক্ষার্থীরাও গত বছরের ২০ এপ্রিল উপাচার্য নিকট লিখিত অভিযোগে সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মইনুদ্দিন এর কর্তৃক ছাত্র-ছাত্রীদের শারিরীক ও মানসিক নিপীড়নের প্রতিকার চান এবং সকল প্রকার একাডেমিক কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন। এই দাবিতে তারা উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎও করেন একাধিকবার।

এদিকে, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বলে জানান একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আকতার মাহমুদ। তদন্ত কমিটি গঠিত হওয়ার প্রায় ১০ মাস পর গত ২৭ শে ফেব্রুয়ারি রেজিস্টার স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে অধ্যাপক গোলাম মইনুদ্দিনের বিষয়ে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত বিভাগের শিক্ষকদের অবহিত করা হয়।
 
কিন্তু সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তসমূহে শিক্ষক শিক্ষাথীদের অভিযোগ ও মূল দাবির কিছুই পরিলক্ষিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন  শিক্ষকরা। পরে শিক্ষকরা সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্ত রিভিউয়ের দাবি জানান। কিন্তু গত ২১ মার্চ প্রশাাসন কর্তৃক প্রেরিত চিঠিতে অধ্যাপক গোলাম মইনুদ্দিনকে সভাপতির দায়িত্বে পূনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নিকট অধ্যাপক গোলাম মইনুদ্দিনের সভাপতির পদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান শিক্ষকরা।

এদিকে বুধবার থেকে সকল প্রকার একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিভাগের শিক্ষকরা। এছাড়া দাবি না মানা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ছাত্র-শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি ও অন্যান্য প্রয়াস অব্যহত থাকবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী জাগো নিউজকে বলেন, আমরা তদন্ত কমিটিকে আমদের বক্তব্য লিখিত ভাবে জানিয়েছে। কিন্তু সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত ও তদন্ত কমিটির কার্ক্রম প্রতিফলিত হয়নি।

আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আকতার মাহমুদ বলেন,সিন্ডিকেটের একই সিদ্ধান্ত দুইবার দুভাবে বিভাগে পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রম দায়িত্বহীনতাও বটে। তাছাড়া আমরা তদন্ত কমিটিতে লিখিতভাবে সব বিষয়ে জানিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তদন্ত কমিটির কার্যক্রম প্রতিফলিত হয়নি।

এ বিষয়ে জানার জন্য নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সভাপতির সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে, তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।


হাফিজুর রহমান/এসকেডি/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।