নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতা : নেপথ্য পরীক্ষায় ফেল


প্রকাশিত: ০১:১৮ পিএম, ০৭ এপ্রিল ২০১৬

যশোর মেডিকেল কলেজের (যমেক) অধ্যক্ষের কার্যালয় ও প্যাথলজি বিভাগে ভাঙচুর চালিয়েছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে যমেক অস্থায়ী কার্যালয়ে এ ভাঙচুর চালানো হয়। যমেকের শিক্ষা কার্যক্রম স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর ও নিয়মিত ক্লাসের দাবিতে এ ভাঙচুর চালানো হয়।

তবে অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ায় তাদের নেতৃত্বেই এ হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।

যশোর মেডিকেল কলেজের প্রধান সহকারী আব্দুস সবুর খান জানান, দুপুরে মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে তার অফিসে যান। এসময় হঠাৎ কিছু উ-শৃঙ্খল শিক্ষার্থী চিৎকার-চেচামেচি এবং অধ্যক্ষের অফিসের জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। কিছুক্ষণ পর প্যাথলজি বিভাগেও তারা ভাঙচুর চালায়।

michil

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, আগামী ১৩ এপ্রিল যশোর মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম স্থায়ী ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হবে বলে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছিল। কিন্তু সে বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত থাকায় বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে। এসময় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার ব্যাপারে অধ্যক্ষের বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় তারা ভাঙচুর করেছেন।

তবে কলেজের অন্য সূত্র জানিয়েছে, যমেক ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন। তাদের পাশ করিয়ে দেয়ার দাবি অগ্রাহ্য হওয়ায় এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এদের একজন যমেক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান তুহিন।

তিনি জানান, গত ৬ মার্চ নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছিল। এরপর কলেজ অধ্যক্ষ তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন ১৩ এপ্রিল অস্থায়ী থেকে তারা নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তর করবেন। কিন্তু সেই সময়সীমা ফুরিয়ে আসলেও স্থানান্তর পদক্ষেপ সন্তোষজনক না হওয়ায় তারা বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এরপর তারা কলেজ অধ্যক্ষে সঙ্গে দেখা করতে যান। কিন্তু অধ্যক্ষ তাদের অপারগতার কথা বলে ‘এ নিয়ে তোমরা যা করতে পারো, করো’ বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে।

JMC

একামেডিক দ্বিতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তুহিন বলেন, পরীক্ষায় একটি বিষয়ে তার ফলাফল খারাপ হয়েছে। তবে এর সঙ্গে আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। শিবিরের সাধারণ সম্পাদকও দুইটি বিষয়ে ফেল করেছেন। তিনিও এ আন্দোলনে ছিলেন। কিন্তু তারপরও যদি অধ্যক্ষ এ আন্দোলনের সঙ্গে এ ফলাফলের সম্পর্কের কথা বলেন, তাহলে বুঝতে হবে আন্দোলন ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা চলছে।

এদিকে, এ ঘটনার পর যমেক একাডেমিক কাউন্সিল ও শিক্ষক সমিতি জরুরি সভায় মিলিত হন। সভায় ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যমেক গাইনী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদারকে প্রধান করে এ কমিটি করা হয়েছে।

সভা শেষে যমেক অধ্যক্ষ ডা. আবু হেনা মাহাবুব উল মওলা চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থীরা কলেজে ভাঙচুর চালিয়েছে। এ ঘটনার পর একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

মিলন রহমান/এআরএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।