লাখাইয়ে বিদ্রোহীদের দাপটে কোণঠাসা আ.লীগ


প্রকাশিত: ০৫:০১ এএম, ২৭ মে ২০১৬

শনিবার লাখাই উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা সবক’টি ইউনিয়নেই অংশগ্রহণ করছেন। একটি ইউনিয়ন ছাড়া বাকি সবগুলোতেই আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। বিদ্রোহীদের বেশিরভাগই শক্তিশালী প্রার্থী। এদের দাপটে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন দলীয় প্রার্থীরা।

অপরদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের বেশীরভাগের মাঝেই যোগ্যতার সংকট রয়েছে। বড় দুই দলের এমন অবস্থার সুযোগে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এ অবস্থায় বিদ্রোহী দমনে ব্যর্থতাই নিজেদের জন্য কাল হতে পারে বলে মনে করছে আওয়ামী লীগের তৃনমূলের নেতাকর্মীরা।

আর বিদ্রোহী প্রার্থী কম হলেও যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে না পারার কারণে নির্বাচনে ভরাডুবির আশঙ্কা করছেন বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তবে এরপরও বড় দুই দলের প্রার্থীদের বাদ দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার হিসেব করছেন না কেউই। প্রতিটি ইউনিয়নেই তাদের সঙ্গেই বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

লাখাই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী লড়ছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ দলীয় মো. আলমগীর আলম তালুকদার (নৌকা), বিএনপি দলীয় আরিফ আহমেদ রুপন (ধানের শীষ), বিএনপি বিদ্রোহী জহিরুল ইসলাম হান্নান (আনারস) ও স্বতন্ত্র মো. এনামুল হক চৌধুরী (ঘোড়া)। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম হান্নান।

মুড়াকরি ইউনিয়নে ৬ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ২ জন ও বিএনপির ১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের এম. তাজুল ইসলাম (নৌকা), বিএনপির মোহাম্মদ আব্দুল কাদের (ধানের শীষ),  আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আবুল কাশেম মোল্লা ফয়সল (মোটরসাইকেল) ও সালাহ উদ্দিন সুমন (চশমা), বিএনপির বিদ্রোহী মো. শামসুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো.  আব্দুস ছোবহান (ঘোড়া)।

মুড়িয়াউক ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দুই  ও বিএনপির একজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. নূরুজ্জামান মোল্লা (নৌকা), বিএনপির মো. আবু লাল (ধানের শীষ), আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী মো. মাসুক মিয়া তালুকদার (চশমা) ও মো. নাসির উদ্দিন (ঘোড়া), বিএনপির বিদ্রোহী রফিকুল ইসলাম মলাই (আনারস)।

সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, এ ইউনিয়নে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মো. মাসুক মিয়া তালুকদার ও রফিকুল ইসলাম মলাইয়ের মাঝে। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন নূরুজ্জামান মোল্লা বিএনপি থেকে সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদান করে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন। এতে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুক মিয়া তালুকদার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তার সঙ্গেই প্রকাশ্যে কাজও করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, নূরুজ্জামান মোল্লা চেয়ারম্যান হওয়ার জন্যই দল বদল করেছেন।

বামৈ ইউনিয়নে উপজেলার সবচেয়ে বেশী চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোটযুদ্ধে মাঠে রয়েছেন। এ ইউনিয়নে ১২ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৬ জন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের মাহফুজুল আলম (নৌকা), বিএনপির শেখ মো. ফরিদ মিয়া (ধানের শীষ), এমএ ওয়াহেদ (হাতপাখা)।

এদিকে,  আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন- এনামুল হক মামুন (টেবিল ফ্যান), ওমর ফারুক (দুটি পাতা), ফারুক আহমেদ (টেলিফোন), মো. হারুন রশীদ নাঈম (ঘোড়া), কাউসার আহমেদ (টোল) ও জুনু আহমেদ জীবন (মোটরসাইকেল)। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজুল হক (অটোরিকশা), রাসেল আহমেদ (চশমা) ও সানু মিয়া (রজনীগন্ধা)।

করাব ইউনিয়নে ৫ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন। এর মধ্যে ২ জন প্রার্থী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী রয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুল হাই (নৌকা), বিএনপির নূরুল আমিন চৌধুরী (ধানের শীষ), আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী জুয়েল রানা ও ছফিল মিয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. বাদশা মিয়া।

বুল্লা ইউনিয়নে ১০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। যদিও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নোমান তালুকদার আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নির্বাচনের ৩ দিন আগে এ ঘটনায় উপজেলার সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়।

এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ৩ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের মোক্তার হোসেন বেনু (নৌকা), বিএনপি আব্দুল কালাম আজাদ টিপু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির নাসির উদ্দিন (লাঙ্গল), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী গিয়াস উদ্দিন (টেবিল ফ্যান), অমূল্য রায় (ঢোল) ও মোশারফ হোসেন (ঘোড়া), বিএনপির বিদ্রোহী নোমান তালুকদার, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাঞ্চন মিয়া (আনারস), মো. জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া (মোটরসাইকেল) ও মহিবুর রহমান চৌধুরী।

এখলাছুর রহমান খোকন/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।