এ যেন কাঁঠালের হাট


প্রকাশিত: ০৬:৩১ এএম, ৩০ মে ২০১৬

পার্বত্য খাড়াছড়ির মাটিরাঙা বাজারে জমে উঠছে কাঁঠালের হাট। খাগড়াছড়ির মধ্যে সব চেয়ে বড় কাঁঠালের হাট এটি। সপ্তাহের শনিবার হাটবার হলেও বৃহস্পতিবার থেকেই প্রত্যন্ত পাহাড়ী জনপদসহ আশে-পাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে স্থানীয় বিক্রেতারা কাঁঠাল নিয়ে আসতে শুরু করেন জেলার সর্ববৃহৎ এ কাঁঠালের বাজারে।

শনিবারের হাটবারকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবারই মাটিরাঙায় এসে ভিড় জমাতে শুরু করেন নোয়াখালী, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকাররা। তারা ট্রাকে ট্রাকে কাঁঠাল নিয়ে যান সমতলের জেলাগুলোতে।

Khagracori-kathal

মাটিরাঙা বাজারে কাঁঠাল নিয়ে আসা খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার সবচেয়ে বড় এ কাঁঠালের হাটে উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ী জনপদ ছাড়াও লোগাং, পানছড়ি, মারিশ্যা, মাইসছড়ি, ভুয়াছড়ি, বাঘাইছড়ি থেকে ট্রাক ও চাঁদের গাড়ি বোঝাই করে কাঁঠাল নিয়ে আসেন স্থানীয় খুচরা ও পাইকারী বিক্রেতারা। স্থানীয় বাজারে প্রতিটি কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে শুরু করে ১০০ টাকা দামে। সমতলের জেলাগুলোতে এ কাঁঠালের দাম তিনগুন বেশি।

মাটিরাঙা বাজারের ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি সপ্তাহে এ বাজার থেকে কমপক্ষে ১০০ ট্রাক কাঁঠাল সমতলের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। যা থেকে মোটা অঙ্কের রাজস্ব আদায় করছে সরকার। এছাড়াও গাড়িতে কাঁঠাল লোড-আনলোডসহ অন্যান্য কাজে প্রতি সপ্তাহের হাটবারে অন্তত দুইশ শ্রমিক নিয়োজিত থাকায় এ মৌসুমে বেকারত্বের হারও কমে আসে। ফলে ঘরে ঘরে অনেকটা উৎসব ভাব পরিলক্ষিত হয়।

Khagracori-kathal

মাটিরাঙার তবলছড়ির কাঁঠাল বাগান মালিক মো. কবির হোসেন জানান, প্রতি বছর মে মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত কাঁঠাল বিক্রি করি।

এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, কাঁঠালে কাঁঠালে ভরে গেছে চাষিদের বাগান। বৃষ্টি থাকায় এ বছর কাঁঠালের বাজারদরও ভালো। ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে আশাবাদী চাষিরা। পাইকারদের অনেকেই বাগান থেকেই কাঁঠাল ক্রয় করে থাকে বলে খরচ খুব একটা হয়না বলেও জানান তিনি।

গেল শনিবার মাটিরাঙা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাগানীরা কাঁঠালের স্তুুপ সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রির অপেক্ষায়। প্রতিটি স্তুপে রয়েছে শ শ  কাঁঠাল। পাইকারি ক্রেতারা দরদাম করে তা কিনছেন।

Khagracori-kathal

সমতল জেলা থেকে আগত পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, স্থানীয় চাষিরা এখনো চড়া দাম ধরে রেখেছেন। আর কয়েক দিন পর দাম অর্ধেকেরও নিচে যাবে। তারপরও সমতলের বড় বড় শহরে চাহিদা থাকায় তারা অনেকটা চড়া দামে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পাহাড়ের কাঁঠাল।

নোয়াখালীর কাঁঠাল ব্যবসায়ী আবদুল খালেক বলেন, ছোট-বড় কোনো হিসাব হয় না। প্রতিটি কাঁঠাল এক দরে ক্রয় করি বাগান মালিকের কাছ থেকে। তবে কাঁঠালের এ মৌসুমে  মাটিরাঙা বাজারে দালাল এবং মধ্যসত্তভোগীর আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় বাইরে থেকে আসা ক্রেতারা হয়রানিসহ আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানান কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ী।

মাটিরাঙা বাজারে লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ঢাকা-চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ব্যস্ত সড়কের উপরে কাঁঠালের হাট বসে বলে বাড়তি ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কের উপরেই কাঁঠাল ট্রাকে লোড-আনলোড হয়ে থাকে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে যানজট লেগে থাকে এ সড়কে। যানজট নিরসনে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। ফলে বাজারে আসা জনগণের চলাফেরায় ভোগান্তির সৃষ্টি ছাড়াও প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

তারা দুর্ঘটনা এড়ানোসহ জনগণের চলাফেরা নির্বিঘ্নে করার স্বার্থে কাঁঠাল বাজারটি অন্যত্র সড়িয়ে নেয়ারও দাবি জানান।

এবিষয়ে মাটিরাঙা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক বলেন, কাঁঠাল-কলাসহ কাঁচা বাজারটি সরানোর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে আমরা ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলেছি। বিকল্প জায়গা খোঁজা হচ্ছে। আশা করছি কুব শিগগিরই আমরা একটি বড় পরিসরে কাঁঠাল-কলাসহ কাঁচা বাজারটি স্থানান্তর করতে পারবো।

এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।