ছাত্রলীগ নেতা খুনের ঘটনায় ৭ জনের যাবজ্জীবন


প্রকাশিত: ০৪:১১ পিএম, ০১ জুন ২০১৬

ফেনীতে ছাত্রলীগ নেতা বিমল চন্দ্র হত্যা মামলায় সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। বুধবার বিকেলে ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নিলুফার সুলতানা এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নোমান ওরফে আবদুল নোমান, মোশারফ হোসেন প্রকাশ জসিম, খোরশেদ আলম ওরফে খুরশিদ, আবদুল মোতালেব ওরফে সবুজ, জসিম উদ্দিন (বলি), জহীর ও সবুজ। এদের মধ্যে নোমান, জসিম উদ্দিন, আবদুল মোতালেব, সবুজ ও জহীরকে অন্য একটি ধারায় সাত বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের একই সঙ্গে দুইটি সাজাভোগ করতে হবে।

যাবজ্জীবন প্রাপ্তদের দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আর সাত বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে। সাত বছরের দণ্ড দেয়া হয়েছে আবদুর রহিমকে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা এবং সবাই পলাতক রয়েছেন বলে জানান এপিপি দ্বিজেন্দ্র কুমার কংশ বনিক। এছাড়া মামলা চলার সময় দুই আসামির মৃত্যু এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আরো আটজনকে খালাস দিয়েছে আদালত।

মামলার নথির বরাত দিয়ে এপিপি জানান, ফুলগাজী উপজেলার জিএমহাট ইউনিয়নে শ্রী চন্দ্রপুর গ্রামের নিকুঞ্জু বিহারী রায়ের ছেলে ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি বিমল চন্দ্র রায়কে ১৯৯৭ সালের ২৭ অক্টোবর ছাগলনাইয়ার রেজুমিয়া ব্রিজ এলাকা থেকে যাত্রীবাহী টেম্পু করে অপহরণ করে আসামিরা।

পরে তাকে জিএমহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শত শত শিক্ষার্থীর সামনে নিয়ে তার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে ও পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনার দুই দিন পর ২৯ অক্টোবর নিহতের ভাই পরিমল রায় বাদী হয়ে ৩৬ জনকে আসামি করে ফুলগাজী থানায় মামলা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন বলেও জানান এপিপি।

নিহতের বড় ভাই পরিমান বিহারী এই রায়ে মামলার ১নং আসামির কোনো সাজা ও কোনো আসামির ফাঁসির আদেশ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সৃষ্টিকর্তার কাছে বিচার প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতে অপিল করবেন বলেও জানান তিনি।

জহিরুল হক মিলু/এআরএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।