মন্ত্রী রবিউল

ঈদযাত্রায় বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নেই, সেবা নিশ্চিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০৬ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬
রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম/ছবি: জাগো নিউজ

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, এবারের ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। তারপরও যাত্রীদের সেবার মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাই সতর্ক থাকবেন।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শনকালে জাগো নিউজের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সদরঘাট থেকে নদীপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

শেখ রবিউল বর্তমানে নৌপরিবহনের পাশাপাশি সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী লঞ্চ টার্মিনালের বিভিন্ন গেট, যাত্রীসেবা কেন্দ্র ও ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং ঈদে বাড়ি ফেরা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন। এসময় তার সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান ও হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেখ রবিউল বলেন, ‘ঈদযাত্রায় যাত্রীদের সেবা দিতে হবে। আমরা চাই তারা যেন নির্বিঘ্নে ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারেন। সেই লক্ষ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা বিঘ্নের মতো বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। তারপরও সতর্ক থাকবো, যাতে যাত্রীসেবার মান বজায় থাকে।’

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী ঘাট শ্রমিকদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। এসময় তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘শ্রমিকদের কারণেই আমাদের বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আপনারা ঈদযাত্রায় ঘাট ব্যবহার করা যাত্রীদের সহযোগিতা করবেন। মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণ করলে যাত্রীরাও আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। কোনো যাত্রী যেন হয়রানির শিকার না হন।’

ঈদযাত্রায় বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নেই, সেবা নিশ্চিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

যাত্রীসেবায় নানা সুবিধা

এদিকে নতুন সরকারের সময়ে যাত্রীসেবায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। ঈদ সামনে রেখে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের জন্য বিনা মূল্যে কুলি (পোর্টার) সেবা, ট্রলি ও হুইলচেয়ারসহ নানা সুবিধা চালু করা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর বন্দর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, নতুন সরকারের সময়ে যাত্রীদের কল্যাণে আরও উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগে সদরঘাটের ওপরের অংশ কিছুটা পরিচ্ছন্ন থাকলেও ভেতরের অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। এবার পুরো এলাকায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে এখন ঘাট অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন।’

ঘাট সূত্রে জানা গেছে, ঈদযাত্রীদের সুবিধার্থে ঈদের আগে পাঁচ দিন এবং পরে পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের জন্য বিনা মূল্যে কুলি সেবা দেওয়া হবে। এসব কুলিকে বিআইডব্লিউটিএ নিজস্বভাবে মজুরি দিয়ে নিয়োগ দিয়েছে, যাতে যাত্রীরা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন।

এছাড়া, যাত্রীদের মালামাল বহনের সুবিধার্থে ১০০টি ট্রলি রাখা হয়েছে, যেগুলো বিমানবন্দর থেকে আনা হয়েছে। যাত্রীরা চাইলে নিজেরাই এসব ট্রলি ব্যবহার করতে পারবেন। সেই সঙ্গে অসুস্থ, অক্ষম ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য হুইলচেয়ারের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে সীমিত সংখ্যক হুইলচেয়ার ছিল, এবার সদরঘাটের ২০টি গেট এলাকায় মোট ৪০টি হুইলচেয়ার রাখা হয়েছে। এসব ব্যবহারে সহায়তা করবেন ক্যাডেট সদস্যরা।

ঈদযাত্রায় বাড়তি চাপ সামাল দিতে সদরঘাটে অতিরিক্ত দুটি ঘাট চালু করা হয়েছে বলেও জানান বন্দর পরিচালক। অন্যদিকে, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের স্বস্তি দিতে লঞ্চ মালিকরা ভাড়া ১০ শতাংশ কমিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সব মিলিয়ে নদীপথের যাত্রীদের জন্য আরও উন্নত, সুশৃঙ্খল ও স্বস্তিদায়ক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমডিএএ/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।