ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আহত ৫০


প্রকাশিত: ০৭:৩৩ এএম, ০২ জুন ২০১৬

গত কয়েকদিনের সহিংসতায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ী ইউনিয়নের সাতটি গ্রামের ৫০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুইজনকে রংপুর ও একজনকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এরা হলেন- দানাহাট গ্রামের রেজাউল করি (৩০), আজাহারুল হক (৫৫) ও দুলাল (৩৫)।

জানা গেছে, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় মুন্সিপাড়া গ্রামের ফজির উদ্দিনের দোকান ভাঙচুর করে একদল সন্ত্রাসী। এরপর ওই এলাকার আরও ১০টি দোকান ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। পাশের গ্রামের (সৈয়দপুর) আব্দুস সামাদের দোকানও গুড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

সামাদ বলেন, তিনি এক সময় একটি বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন। কিন্তু তা দিয়ে সংসার চলছিল না। তাই চাকরি ছেড়ে দিয়ে এলাকায় ব্যবসা শুরু করেন। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোভাবে দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু গত ২৮ মে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীরা তার দোকানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করে। হঠাৎ করে ব্যবসা বন্ধ হওয়ায় কষ্টে পড়েছে সামাদের পরিবার।

একই সমস্যায় পড়েছে এলাকার অনেক দোকানদার ও ব্যবসায়ী। বান্দিগড় গ্রামের শশী উদ্দিন (৮০) বলেন, সন্ত্রাসীরা বৃদ্ধদেরও ছাড়ে না। তিনিও হামলার ভয়ে পালাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, এই ইউনিয়নের দানারহাট, বান্দিগড়, বশভাঙ্গা, মুন্সিপাড়া, সৈয়দপুর, শালের হাট ও পূর্ব বেগুনবাড়ি গ্রামের নারী পুরুষ সন্ত্রাসীদের ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকে প্রাণের ভয়ে এলাকা ছেড়ে দিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান বনি আমিনের সমর্থক কর্মীরা এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছেন।
 
এ প্রসঙ্গে বনি আমিন বলেন, তার সুনাম নষ্ট করার জন্য তার প্রতিপক্ষরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, ঘটনা সম্পর্কে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রবিউল এহসান রিপন/এসএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।