বিলীনের পথে ৮শ বছরের গাইনের মসজিদ


প্রকাশিত: ০৬:৪৮ এএম, ০৭ জুন ২০১৬

নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের হারুলিয়া গ্রামে ৮শ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী গাইনের মসজিদটি জৌলুস হারিয়েছে অনেক আগেই। দ্রুততম সময়ে সংস্কার না করা হলে হারিয়ে যেতে পারে মুঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী এ স্থাপনাটি।
   
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, মুঘল সাম্রাজ্যকালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজীর শাসন আমলে জনৈক শাইখ মোহাম্মদ ইয়ার নামক এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ১২০০ খ্রীষ্টাব্দে এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন।

মসজিদটির ঈমাম মওলানা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জাগো নিউজকে জানান, মসজিদের ভেতরে দেয়ালের গায়ে ফার্সিতে শাইখ মোহাম্মদ ইয়ারের নাম লিখা রয়েছে। সেখানে ১২শ খ্রীষ্টাব্দ লিখা থাকায় মনে হচ্ছে তিনিই মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা এবং ১২শ খ্রীষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও ফার্সিতে আরো লেখা রয়েছে “শাইখে মোহাম্মদ ইয়ারে বাসিন্দা/হারুলিয়া বসিটকে/আইজ দীলে সুধাবানী মসজিদ/হাজারে দু’সাদ্দেখানা দু’সনমে বুয়াত/বাহাতুপে আমুদা তারকে সালেশ”।

কথা হয় হারুলিয়া গ্রামের নবীন-প্রবীণ অনেকের সঙ্গেই। তাদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম ও পিন্টু মিয়া জাগো নিউজকে জানান, মুঘল আমলে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজীর শাসনকালে এ মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। উপমহাদেশে তৎকালীন সময়ে নির্মিতব্য ৮টি মসজিদের মধ্যে এটি একটি। গ্রামবাসী এটিকে হারুলিয়া দক্ষিণপাড়া পুরাতন জামে মসজিদ আবার গাইনের মসজিদ বলেও চেনেন।
 
এলাকাবাসী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, গত ৮/১০ মাস আগে রাতের আঁধারে কে বা কারা মসজিদের ভেতরের ফার্সি লেখায্ক্তু একটি বহু মূল্যবান ৬/৭ কেজি ওজনের কষ্টি পাথর চুরি করে নিয়ে যায়। তখনকার কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহা. রুহুল আমীন খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন। সেই পাথরটি আজও উদ্ধার করা যায়নি।

অপরদিকে এলাকার প্রবীণ কয়েকজন জানান, মসজিদটি গাইন সম্প্রদায়ের লোকেরা নির্মাণ করেছিলেন বলে এটিকে গাইনের মসজিদ বলা হয়। মসজিদটির সামনে রয়েছে বিশালকার জালিয়ার হাওর। তৎকালীন সময়ে দূর-দূরান্ত থেকে বর্ষাকালে নৌকা নিয়ে গাইন সম্প্রদায়ের লোকজন এ এলাকায় এসে ব্যবসা-বাণিজ্য করতো। আশে পাশের কোথাও মসজিদ না থাকায় নামাজ পড়ার সুবিধার্থে তারাই এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। কালের বিবর্তনে তারা চলে গেলেও রয়ে যায় ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটি।

প্রতিষ্ঠাতা নিয়ে যত কথাই থাকুক না কেনো, এলাকাবাসীর দাবি উপমহাদেশের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটিকে টিকিয়ে রাখতে সংস্কারসহ ভূমি বৃদ্ধির জন্য সরকার তথা দানশীল ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিগণ সহযোগিতার হাত বাড়ালে ঐতিহ্যবাহী এ ধর্মীয় নিদর্শনটি মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে।

এফএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।