হবিগঞ্জে দু`দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক


প্রকাশিত: ০৯:১৬ এএম, ০৮ জুন ২০১৬

হবিগঞ্জে ইজিবাইকের ভাড়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে দু`দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গোপায়া গ্রামের কামরুল ইসলাম স্থানীয় ধুলিয়াখাল তেমুহনা থেকে মঙ্গলবার রাতে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকযোগে গোপায়া বাজারে যান। সেখানে তিনি ইজিবাইকের ভাড়া ৫ টাকা দেন। কিন্তু তেতৈয়া গ্রামের বাসিন্দা ইজিবাইক চালক সুজন মিয়া ১০ টাকা ভাড়া দাবি করেন। এ নিয়ে তাদের মাঝে বাগবিতণ্ডা হয়।

এক পর্যায়ে কামরুল উত্তেজিত হয়ে সুজনকে মারপিট করেন। খবর পেয়ে তেতৈয়া গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেয়। তারা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানায়।

এই খবর ছড়িয়ে পড়লে গোপায়া গ্রামের লোকজনও একই কায়দায় সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেয় এবং মসজিদের মাইকে প্রচারণা চালায়। রাত ১০টায় তারাবিহর নামাজ শেষে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। বুধবার ভোরে ফজরের নামাজের পর পুনরায় সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিতে উভয় গ্রামের মসজিদের মাইকে প্রচারণা চালানো হয়। ভোরেই তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় বেলা ১১টা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ।

এ সময় ধুলিয়াখাল-মিরপুর সড়কের গোপায়া বাজার ও আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। আগুনে একটি ফ্রিজ ও একটি মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। লুট করা হয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালামাল।

এ সড়কে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। সংঘর্ষে আহতদের কয়েকজন সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হলেও বেশিরভাগই গ্রেফতার আতঙ্কে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে।

সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দিন জানান, ইজিবাইকের ভাড়া নিয়ে দুই গ্রামের লোকজন থেমে থেমে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এখলাছুর রহমান খোকন/এসএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।