প্রেমিককে চেয়ারম্যানের মধ্যযুগীয় নির্যাতন


প্রকাশিত: ০১:২০ পিএম, ১১ জুন ২০১৬

গেঞ্জি ও চেক লুঙ্গি পরিহিত লোকটি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। নাম তার মো. জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি। ক্ষমতাসীন দলের নেতা হিসেবে এলাকায় তার ব্যাপক প্রভাব।Capture

৯ জুন। সকাল তখন ৯টা। ঘটনাস্থল টইটং ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তায় শতাধিক লোক জটলা পাকিয়ে চেয়ারম্যানের বিভৎস্য নির্যাতনের চিত্র প্রত্যক্ষ করছেন। প্রেমিকা মুবিনা আকতারকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় টইটং ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন গ্রাম পুলিশ মৌলভীবাজার থেকে আটক করেন রেজাউল করিম নামের এক যুবককে। তিনি টইটং ইউনিয়নের গুদিকাটা গ্রামের মোস্তাক আহমদের ছেলে।

এসময় খবর পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, টইটং ইউনিয়নের কয়েকজন গ্রাম পুলিশ যুবক রেজাউল করিমকে হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে হাজির করেন পরিষদের সামনে। এরপর সেখানে গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরে হাজির হন ইউনিয়ন পরিষদের ‘ব্যাপক’ ক্ষমতাধর চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। এসময় চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশের কাছ থেকে একটি লাটি নিয়ে বেধড়ক পেঠানো শুরু করেন যুবক রেজাউল করিমকে। শত কাকুতি মিনতি করেও রক্ষা পেলে না অসহায় রেজাউল।

দেখা গেছে, রেজাউলকে রাস্তায় ফেলে তার শরীরের উপর চেয়ারম্যান দুই পা তুলে দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়। অবশ্য এর পূর্বে গ্রামের কয়েকজন গ্রাম পুলিশ ওই যুবককে ব্যাপক মারধর করে। উপস্থিত শতাধিক লোক এ সময় চেয়ারম্যানের মধ্যযুগীয় ও বিভৎস্য নির্যাতনের চিত্র দেখে হতবাক হয়ে যান। কিন্তু ক্ষমতাধর চেয়ারম্যানের ভয়ে ওই যুবককে রক্ষায় কেউ এগিয়ে আসেনি।

সিনেমার স্টাইলে যুবক রেজাউল করিমকে প্রায় দেড় ঘণ্টা অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছেন চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। সকাল ১১টার দিকে পেকুয়া থানা পুলিশে খবর পাঠান ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদ। পরে পুলিশ এসে ওই যুবককে গুরুতর আহত অবস্থায় থানায় নিয়ে যায়। থানা থেকে ওই যুবককে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাজির করেন পেকুয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে।

পেকুয়ার ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মারুফুর রশিদ খান ওই যুবককে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে তিন মাসের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন।Capture  

স্থানীয়রা জানায়, যুবক রেজাউল করিমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল একই এলাকার ছাবের আহমদের কন্যা মুবিনা আকতারের। ঘটনার দিন ভোরে তারা দুইজন পালিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে বের হন। পথিমধ্যে সকাল ৮টার দিকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের মৌলভী বাজার থেকে প্রেমিক-প্রেমিকা দুইজনকে আটক করেন টইটং ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন গ্রাম পুলিশ। এরপর ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তায় এনে চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশ মিলেমিশে যুবক রেজাউল করিমের উপর হায়েনার মতো নির্যাতন চালায়।

নির্যাতনের সময় উপস্থিত লোকজন নিজেদের চোখের পানি সংবরণ করতে পারেনি। লোকজনের দু’চোখ বেয়ে পানিয়ে গড়িয়ে পড়লেও ক্ষমতাধর ইউপি চেয়ারম্যানের ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারেনি।

টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এক মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রাম পুলিশ ওই যুবককে তার কাছে নিয়ে এলে তিনি হালকা-পাতলা উত্তম মধ্যম দিয়েছেন। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কেন ওই যুবককে নির্যাতন চালিয়েছেন- এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভাই ভুল হয়ে গেছে। এ নিয়ে কোন নিউজ করবেন না। প্রয়োজনে আমার পক্ষে পত্রিকায় একটা নিউজ করেন, আমি কাল সকালে আপনার জন্য খরচপাতি পাঠিয়ে দেব।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।