সোবাহান বেপারী - কালার টি


প্রকাশিত: ০৩:৫৯ এএম, ১৫ জুন ২০১৬

সোবাহান বেপারী - কালার টি। শরীয়তপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র বটতলায় দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে চা বিক্রি করে জীবন চালাচ্ছেন সোবাহান বেপারী। চায়ের দোকানের নাম রেখেছেন সোবাহান বেপারী - কালার টি। তার হাতের পরশে চা যেন হয়ে উঠেছে একটি শিল্প । চায়ের বিভিন্ন বাহারি নামও দিয়েছেন তিনি। কালার টি, গ্রীন টি, ব্লাক কফি ও হোয়াইট কফি।
 
সোবাহান বেপারী ছয় ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। প্রাথমিক বিদ্যালয় পার হয়ে হাই স্কুলে যোগদান না করেই বাবাকে সহযোগিতার জন্য কাজে নেমে যান। স্বাধীনতার পর নারায়ণগঞ্জের সান টেক্সটাইলে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত চাকরিও করেন। কিন্তু ১৯৯৮ সালে ১০ মাসের বেতন বকেয়া রেখে মালিক পক্ষ মিল বন্ধ করে দেয়। পরে ২০০৩ সাল থেকে বটতলায় চায়ের দোকান শুরু করেন তিনি।

subhan

২০০৫ সালে স্ত্রী তাকে ছেড়ে ঢাকায় চলে আসে। এরপর থেকেই নিঃসঙ্গ সোবাহান বেপারী এই দোকানেই দিন-রাত অবস্থান করেন। ছেলেরা খোঁজ খবর নেয় না। মেয়েরা মাঝে মাঝে বাবার খোঁজ নিতে আসে।
 
কথা হয় সোবাহান বেপারীর সঙ্গে। তিনি জানান, প্রতিদিন চা-কপি ও বুট-মুড়ি বিক্রি করে তার ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লাভ হয়। এ টাকা দিয়েই তার সব প্রয়োজন মিটিয়ে থাকেন। সোবাহান বেপারীর ইচ্ছা তার দোকানটি বড় করে চায়ের ব্যবসাকে প্রসারিত করা। বার্ধক্যের কারণে চলতে কষ্ট হলেও তিনি অনেক বড় চা ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।
 
চায়ের দোকনের ক্রেতা পলাশ খান বলেন, সোবাহান বেপারী চা-কফি তৈরিকে শিল্পে পরিণত করেছেন। তার হাতের বানানো চা-কপি পান করার জন্য বিশ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে প্রতি সন্ধ্যায় এখানে আসি।

শহরের চাকরিজীবী, আইনজীবী ও শিক্ষিত ব্যক্তিরা সোবাহান বেপারীর দোকানে নিয়মিত চায়ের টেবিলে আড্ডা জমান।

ছগির হোসেন/এফএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।