ট্রাম্পের হুমকি

হরমুজ প্রণালি সচলে সাহায্য না করলে ন্যাটোর ‘ভবিষ্যৎ খুব খারাপ’ হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:২০ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প/ ফাইল ছবি: এএফপি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি সচল করতে মিত্র দেশগুলো এগিয়ে না এলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ‘খুব খারাপ’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘এই প্রণালির সুবিধাভোগী যেসব দেশ, তাদেরই নিশ্চিত করতে হবে সেখানে কোনো সমস্যা না হয়।’ তিনি বলেন, ‘যদি কোনো সাড়া না পাওয়া যায় বা জবাব নেতিবাচক হয়, তাহলে আমি মনে করি ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য তা খুবই খারাপ হবে।’

ট্রাম্পের প্রস্তাবে মিত্রদের নীরবতা

মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহের ওপর ইউরোপ ও চীন সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল হলেও এটি সচল রাখতে তারা কোনো ভূমিকা রাখছে না। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন আমাদের থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে হওয়া সত্ত্বেও আমরা তাদের সাহায্য করেছি। কিন্তু এখন আমাদের প্রয়োজনে কাউকে পাশে পাচ্ছি না।’

এর একদিন আগে ট্রাম্প চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যকে একসঙ্গে কাজ করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়।

আরও পড়ুন>>
ইরান সংঘাতে জড়াবে না ন্যাটো: রুটে
তুরস্কে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা, কী বলছে ন্যাটো?
ন্যাটো ৩.০: নেতৃত্ব গ্রহণ করতে চায় ইউরোপ, কোণঠাসা যুক্তরাষ্ট্র?

দুই সপ্তাহের বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর তেহরান এই প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন তেলের ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পেতে রাখা মাইন ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর কাছে ‘মাইনসুইপার’ (মাইন অপসারণকারী জাহাজ) এবং কমান্ডো বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন। তিনি ইরান উপকূলে অবস্থানরত ‘ব্যাড অ্যাক্টর’ বা উগ্রবাদীদের নির্মূল করতে ইউরোপীয় বিশেষ বাহিনীকে সরাসরি অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের ন্যাটো বলে একটা জিনিস আছে। আমরা খুব মিষ্টি আচরণ করেছি। ইউক্রেনের ব্যাপারে আমাদের তাদের সাহায্য করতে হয়নি। ইউক্রেন আমাদের থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে... কিন্তু আমরা তাদের সাহায্য করেছি। এখন দেখা যাক তারা আমাদের সাহায্য করে কি না। কারণ আমি অনেক আগেই বলেছি, আমরা তাদের জন্য থাকবো কিন্তু তারা আমাদের জন্য থাকবে না। এবং আমি নিশ্চিত নই যে তারা থাকবে।’

যুক্তরাজ্যের প্রতি ক্ষোভ

ট্রাম্প জানান, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি যুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন।

তার অভিযোগ, শুরুতে সহায়তা চাওয়ার পরও যুক্তরাজ্য সাড়া দেয়নি। পরে পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর তারা দুটি জাহাজ পাঠানোর কথা বলেছে।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্যকে এক নম্বর মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। যখন আমি তাদের আসতে বলেছিলাম, তারা আসতে চায়নি। আর যখনই আমরা ইরানের ক্ষমতা প্রায় শেষ করে ফেললাম, তারা (যুক্তরাজ্য) বললো, 'আচ্ছা, আমরা দুটি জাহাজ পাঠাবো'। আমি বললাম, 'আমাদের এই জাহাজগুলো জয়ের আগে দরকার, জয়ের পরে নয়'। আমি অনেক আগেই বলেছি যে ন্যাটো একটি একমুখী রাস্তা।

চীন সফর স্থগিতের ইঙ্গিত

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চীনের ৯০ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ হয় উল্লেখ করে ট্রাম্প বেইজিংয়ের ওপরও চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। চলতি মাসের শেষের দিকে তার চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, প্রণালি সচল করতে চীন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সফর পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা সফরের আগেই সমাধান চাই, দুই সপ্তাহ অনেক দীর্ঘ সময়।’

ইরানে আরও হামলার হুমকি

ট্রাম্প দাবি করেন, গত দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের নৌবাহিনী, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও বিমানবাহিনী প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

প্রয়োজনে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে নতুন করে হামলা চালানো হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

একই সঙ্গে ট্রাম্প জানান, ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যদি রাশিয়া তথ্য সহায়তা দিয়ে থাকে, তা নিয়েও ওয়াশিংটন নজর রাখছে।

সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।