প্রবাসী ময়নাল হত্যাকাণ্ডে আরো ৬ জনের নাম প্রকাশ
কুমিল্লার মুরাদনগরের জাড্ডা হাহাতি গ্রামে স্ত্রীর ভাড়াটে খুনীদের হাতে খুন হওয়া সৌদি প্রবাসী ময়নাল হোসেনের হত্যাকাণ্ডে আরো ৬ ঘাতকের নাম প্রকাশ পেয়েছে।
কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ফাহাদ বিন আমিন চৌধুরীর আদালতে ময়নালের অন্যতম দুই ঘাতক বদি ডাকাত ও বাবু মিয়া হত্যা ও মরদেহ গুমের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।
বুধবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবির এসআই মো. সহিদুল ইসলাম।
এদিকে খালের নিচ থেকে মরদেহ উত্তোলনের দুই দিন পার হলেও এখনো তার ময়নাতদন্ত হয়নি। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ বাড়ি নিয়ে যেতে ওই প্রবাসীর স্বজনদের দিনভর অপেক্ষার পর বুধবার বিকেলে চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন বোর্ড গঠন বিলম্ব হওয়ায় বৃহস্পতিবারের আগে ময়নাতদন্ত হচ্ছে না।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুুপুরে গ্রেফতারকৃত বদি ও বাবু আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দীতে জানায়, ‘নিহতের স্ত্রী তাছলিমার সঙ্গে তার স্বামীকে হত্যা করতে ৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়। গত বছরের ১ নভেম্বর রাতে অগ্রিম ৪০ হাজার টাকা দেয়ার পর তারা সেটা ৫ হাজার টাকা করে ভাগ করে নেয়। গভীর রাতে প্রবাসী ময়নালের হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ও বালিশ চাপা দেয়ার পর শ্বাসরোধ করে ঘরের ভেতরই তাকে হত্যা করা হয়।
এসময় ঘরের বাইরে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তাছলিমা আক্তার। হত্যা নিশ্চিত করার পর মরদেহ বাড়ির অদূরে একটি খালে নিয়ে অন্তত ৫/৬ ফুট গভীর গর্ত খনন করে পুঁতে ফেলা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, জবানবন্দীতে ওই ২ ঘাতক তাদের আরও ৬ সহযোগীর নাম প্রকাশ করেছে। এদের সবাই হত্যা ও মরদেহ গুমে জড়িত ছিল। তাদের গ্রেফতারে ডিবি পুলিশের অভিযান চলছে বলেও তিনি জানান।
এর আগে এ মামলার প্রধান আসামি নিহতের স্ত্রী তাছলিমা আক্তারকে গত ৮ মার্চ গ্রেফতারের পর তিনি হত্যা ও মরদেহ গুমের সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশ করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রবাসীর দুই ঘাতক বদি ডাকাত ও বাবু মিয়ার উপস্থিতিতে গত মঙ্গলবার দুপুরে ডিবি পুলিশ জেলার মুরাদনগর উপজেলার জাড্ডা হাহাতি গ্রামের একটি খালের ৫/৬ ফুট গভীর গর্ত থেকে ওই প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করে।
কামাল উদ্দিন/এফএ/এবিএস