রাজশাহীতে দাম বেড়েছে সবজি-মাছ-চালের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ১১:৩০ এএম, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

রাজশাহীর স্থানীয় বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আবারও বেড়েছে। চাল, তেল, সবজি ও মাছের দাম বাড়তি থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে। ক্রেতারা বলছেন, প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ায় মাসের মাঝামাঝিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে একমাত্র স্বস্তি হিসেবে কমেছে কাঁচা মরিচের দাম।

রাজশাহীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগাম শীতকালীন সবজির দাম বাড়ছে হু হু করে। এক কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, করলা ৮০ থেকে ৯০ টাকায়, আর টমেটো ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। মাঝারি আকারের লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। গত সপ্তাহে ২৫০ টাকার কাঁপা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়।

মাছের বাজারেও দাম বাড়তি। চাষের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায়, পাঙাশ ২৫০ টাকায়, দেশি শিং ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় এবং তেলাপিয়া ৩০০ টাকায়। দেশি পাবদা বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়।

চালের বাজারেও স্থিতিশীলতা নেই। সরু নাজিরশাইল বা সিলেক্ট চালের দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, মাঝারি মানের চাল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং মোটা চাল ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আটা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়, আর প্যাকেটজাত সয়াবিন তেলের লিটার ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায়। সরিষার তেল লিটারে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়, আর প্যাকেটজাত চিনি ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। খেসারি ডাল ১৫০ টাকা, মসুর ডাল ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম এখন কেজিপ্রতি ২০০ টাকা, সোনালি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা, আর দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়।

নগরীর সাহবে বাজারের ক্রেতা নুরুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে যে সবজি ৫০ টাকায় কিনতাম, এখন সেটি ৮০ টাকাও নিচ্ছে না। বাজারে ঢুকলেই টাকার হিসাব মেলে না।

আরেক ক্রেতা আবদুল মান্নান বলেন, মাছের দাম একটু বেশি। গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে। প্রতি সপ্তাহেই দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আমরা সমস্যায় পড়ছি।

ক্রেতা সেলিনা খাতুন বলেন, একটা সময় দুই কেজি মুরগি কিনে দুইদিনের রান্না হতো। এখন সেই টাকায় এক কেজিও হয় না।

তবে বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকেই জিনিসপত্র বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। নগরীর হেতেমখাঁ বাজারের বিক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, পরিবহন খরচ, বিদ্যুৎ বিল, দোকান ভাড়া—সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। আমরা চাই না দাম বাড়াতে, কিন্তু লোকসানেও থাকতে পারি না।

মাছ বিক্রেতা নাসির উদ্দিন বলেন, এখন খাবার মাছের যোগান কিছুটা কম। বিশেষ করে দেশি মাছ খুব কম পাওয়া যায়, তাই দামও বেশি।

সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকারি মনিটরিং জোরদার না হলে নিত্যপণ্যের এই অস্থিরতা আরও বাড়বে। তারা আশা করছেন, আসন্ন শীতের মৌসুমে সবজির উৎপাদন বাড়লে অন্তত বাজার কিছুটা স্বস্তিতে ফিরবে।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি জোরদার করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সাখাওয়াত হোসেন/কেএইচকে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।